
শেষ আপডেট: 9 July 2020 18:30
ভারতীয় বায়ুসেনা জানিয়েছে, মিগ-২৯ ফাইটার জেটের আধুনিক ভ্যারিয়ান্টে এমন সেন্সর ও ক্যামেরা লাগানো আছে যা রাতের বেলাতেও কাজ করতে পারে। যে কোনও পরিবেশ ও আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে টার্গেটে আঘাত করতে পারে মিগের এই নয়া ভ্যারিয়ান্ট। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার গালওয়ান ও গোগরা হটস্প্রিংয়ে বিতর্কিত পেট্রোলিং পয়েন্টগুলোতে রাতের সময়েও কড়া নজরদারি রাখতে পারবে এই যুদ্ধবিমান। আর লেহ এয়ারবেস থেকে খুব দ্রুত এলএসি-তে চলে আসাও সম্ভব মিগের।
গত ১৫ জুন হটস্প্রিং এলাকার ১৫ নম্বর পেট্রোলিং পয়েন্টে দুই দেশের বাহিনীর রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের পর থেকেই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখায় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে আরও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করে ভারতীয় সেনা ও বায়ুসেনা। সীমান্তে নামানো হয় মিরাজ-২০০০, সুখোই ৩০-এমকেআই, মিগ-২৯ এর মতো যুদ্ধবিমান এবং অ্যাপাচে এএইচ-৬৪ ও চিনুকের মতো অ্যাটাক কপ্টার। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এলএসি পেরিয়ে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চিনা বাহিনী প্রায় আট কিলোমিটার ঢুকে এসেছে। দুই দেশের সেনা কম্যান্ডার পর্যায়ের বৈঠকের পরে গোগরা পোস্টের ১৭-এ পেট্রোলিং পয়েন্ট, গালওয়ানের পিপি ১৪, হট স্প্রিংয়ের পিপি ১৫ থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার পিছোলেও পুরোপুরি দখল ছাড়েনি চিনের বাহিনী। গালওয়ানে তাদের সাঁজোয়া গাড়ি ও সামরিক পরিকাঠামো এখনও রয়েছে। অন্যদিকে প্যাঙ্গং রেঞ্জের ফিঙ্গার পয়েন্ট ৪ থেকে ফিঙ্গার পয়েন্ট ৮ এলাকা এখনও দখল করে রেখেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। ভারতীয় সেনার কাছে খবর রয়েছে, প্যাঙ্গং লেক থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরত্বে ১৪,০২২ ফুট উচ্চতায় নাগারি এয়ারবেসে চিনা বায়ুসেনার তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। তাই এয়ার ডিফেন্সে এখনই ঢিলে দিতে রাজি নয় ভারতীয় বাহিনী।
পুরনো মিগের বদলে মিগ-২৯ ভ্যারিয়ান্ট প্রযুক্তিগতভাবে অনেক বেশি আধুনিক ও আক্রমণাত্মক। ডবল ইঞ্জিন এই ফাইটার জেট তৈরি করে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন। তারপরে ক্রমান্বয়ে মিগের আধুনিকীকরণ হয়েছে। রুশ প্রযুক্তিতে তৈরি এই যুদ্ধবিমানে মাঝ আকাশেই জ্বালানি তেল ভরার প্রযুক্তি এখন বায়ুসেনার হাতে। এ ছাড়া মিগ-২৯ এখন অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম এবং একই সঙ্গে বিভিন্ন দিকে আক্রমণ শানাতে দক্ষ। এয়ার-টু-সারফেস অর্থাৎ আকাশ থেকে ভূমিতে নির্ভুল লক্ষ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার প্রযুক্তি রয়েছে মিগ-২৯ ভ্যারিয়ান্টের। অতিরিক্ত জ্বালানি ছাড়াই ১৫০০ কিলোমিটার টানা চক্কর কাটতে পারে মিগ-২৯। এর গ্লাস ককপিটে রয়েছে মাল্টি-ফাংশন ডিসপ্লে। এতে রয়েছে আধুনিক ফ্যাজোট্রন আরএলপিকে-২৯ রাডার ফায়ার কন্ট্রোল সিস্টেম। নাইট ভিশনের জন্য উন্নত ক্যামেরা ও সেন্সর। কার্গিল যুদ্ধে দক্ষতা প্রমাণ করেছিল মিগের এই নয়া ভ্যারিয়ান্ট।
এই মুহূর্তে ভারতের হাতে আছে ৩১ স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান। প্রতি স্কোয়াড্রনে থাকে ১৬-১৮টি যুদ্ধবিমান। রাশিয়া থেকে আরও ২১টি মিগ-২৯ ফাইটার জেট বায়ুসেনার হাতে চলে আসবে এর মধ্যেই।