
শেষ আপডেট: 21 January 2023 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: তিনি কার্টুন (cartoon) আঁকেননি। শেয়ার করেছিলেন মাত্র। যাই ঘটুক, আগামী দিনেও করবেন। জানালেন অম্বিকেশ মহাপাত্র (Ambikesh Mahapatra)। বললেন, “ভারতের সংবিধান আমাকে এই অধিকার দিয়েছে। কাজেই সংবিধান মেনেই এই অধিকার আবারও ভোগ করব। এ নিয়ে কোনও দ্বিধা দ্বন্দ্বের জায়গা নেই।”
শোনা যায়, এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রে তাঁর কার্টুন ছাপা না হলে নাকি সে দিনটা বৃথাই যেত দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর। এমনও শোনা যায়, কেন সেদিন কার্টুনের আঙিনায় তিনি ব্রাত্য খোঁজখবর নিতেন নানা সূত্রে। আসলে কার্টুন যে ভারতের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা অপরিহার্য অঙ্গ ছিল এই সেদিনও। ব্যঙ্গ চিত্রের শানিত ছুরি বরাবরই ছিল বিরোধীদের হাতের মহা অস্ত্র। আবার এই কৌতুক শিক্ষা জনসচেতনতারও অন্যতম মাধ্যম। কিন্তু দিনবদলে কবে থেকেই রাজনৈতিক শ্লেষের মেদ ঝড়িয়ে কার্টুন মানেই এখন শুধু ছোটা ভীম আর মোটু-পাতলু।
শনিবার বর্ধমানে অম্বিকেশ বললেন, “অনেক জটিল বিষয় অতিসংক্ষেপে মানুষের কাছে তুলে ধরা যায়। যারা পড়াশোনা জানেন না তারাও সহজে বুঝতে পারেন। এই জিনিস দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে, এ জিনিস থাকবে। একে আক্রমণ করে থামানো যাবে না। আমার কথা বলার অধিকারকে কেড়ে নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকার পুলিশ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে আমার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছিল। বেআইনি পদক্ষেপ করে মামলাকে দীর্ঘায়িত করেছিল যাতে কোনওভাবেই মামলার নিষ্পত্তি না হয়।”
২০১২ সালে রেলমন্ত্রী বদলের সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট শেয়ার করেছিলেন অম্বিকেশ। তাতে ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দীনেশ ত্রিবেদী এবং মুকুল রায়ের ছবি। সেই পোস্টের জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল অম্বিকেশকে। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে তোলপাড় পড়ে যায় রাজ্যে। অবশেষে ১১ বছর পর সেই মামলা থেকে মুক্তি পান অম্বিকেশ। পশ্চিমবঙ্গ পঞ্চায়েত কর্মচারী সমিতি সমূহের যৌথ কমিটির একাদশ রাজ্য সম্মেলনের প্রকাশ্য সমাবেশে যোগ দিতে শনিবার বর্ধমানে (Bardhaman) এসেছিলেন অম্বিকেশ মহাপাত্র। সেখানেই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অধ্যাপক।
অম্বিকেশ মুক্ত ১১ বছর পর, হাসতে হাসতে অধ্যাপক বললেন ‘ওই ধারাটাই ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছে’