দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাটমানি ফেরতের দাবি যখন মহামারির মতো সংক্রামিত হয়ে গিয়েছে বাংলার গ্রাম-গঞ্জে, এবং সে জন্য সকাল বিকেল হেনস্থা হতে হচ্ছে এক শ্রেণির তৃণমূল নেতাকে, তখন এ ব্যাপারে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ব্যাখ্যা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
বুধবার বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “দলের একটা অনুষ্ঠানে কর্মীদের শাসন করছিলাম। ওদের বলছিলাম কী ভাবে ‘সিম্পল লিভিং’ (সাধারণ জীবনযাপন) করবে। এ-ও বলছিলাম, সরকারি প্রকল্পের সুবিধা যেন সাধারণ মানুষ পায়। কিন্তু সেই কথাই সংবাদমাধ্যমের একাংশ আর বিরোধীরা অপব্যাখ্যা করেছে।”
টাকা ফেরতের ব্যাপারে এ দিন কোনও উচ্চবাচ্য করেননি মুখ্যমন্ত্রী। প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নজরুল মঞ্চে তৃণমূলের সব কাউন্সিলরদের নিয়ে এক বৈঠকে মমতা বলেছিলেন, সরকারি প্রকল্প থেকে যারা কাটমানি নিয়েছেন, ফেরত দিন। তিনি এ-ও বলেন, পুরসভাগুলোর অডিট হচ্ছে। এ বার চোর ধরা পড়বে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সব কথা সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে। তার পর থেকেই জেলায় জেলায় তৃণমূলের পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরের কিছু নেতার বাড়ি ঘিরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের দাবি, কোথাও চাকরি দেওয়ার নামে তৃণমূল নেতা টাকা নিয়েছেন, তো কোথাও সরকারি টাকায় বাড়ি বানানোর প্রকল্পে কাটমানি নেওয়া হয়েছে। সেই টাকা ফেরতের দাবি তুলছেন তাঁরা।
এ হেন পরিস্থিতিতে গ্রামে-গঞ্জে এখন বহু তৃণমূল নেতা ঘর ছাড়া। কোথাও আবার দেখা যাচ্ছে, স্থানীয় তৃণমূল নেতা টাকা ফেরত দিচ্ছেন বা সে ব্যাপারে মুচলেকা দিচ্ছেন। ফলে বিরোধীরা এখন সরকারকে আরও চেপে ধরেছে। কেউ বলছেন, মুখ্যমন্ত্রীই হলেন বাংলার পুলিশ মন্ত্রী। তিনি যখন জানেন, তাঁর দলে কারা চোর, তা হলে পুলিশকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিচ্ছেন না কেন? আবার বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান এ ব্যাপারে কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এ দিন স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কোনও কমিশন সরকার গঠন করবে না। রাজ্যে লোকায়ুক্ত রয়েছে। কারও কোনও অভিযোগ থাকলে যেন লোকায়ুক্তর কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।
মুখ্যমন্ত্রীর এ কথার প্রেক্ষিতে লোকায়ুক্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কয়েক জন বিরোধী সাংসদ। কিন্তু মমতা বলেন, ও সব জানি না। অভিযোগ থাকলে লোকায়ুক্তর কাছেই অভিযোগ জানাতে হবে।
এর পরেই পাল্টা আক্রমণাত্নক হন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “সব দলেই খারাপ লোক রয়েছে। শুধু তৃণমূলের নেতারাই টাকা তুলেছেন? আর কেউ টাকা তোলেননি? আপনারাও তো টাকা নেন?” মমতার এ কথা শুনেই বিরোধীরা রে রে করে ওঠেন। মুখ্যমন্ত্রী তখন বলেন, না না আপনাদের কথা বলছি না। সাংবাদিকদের কথা বলছি। অনেক সাংবাদিক রয়েছেন, যাঁরা অ্যাপয়েন্টমেন্ট করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা নেন। আমি নাম বলতে পারি! যদিও শেষমেশ কারও নাম বলেননি মুখ্যমন্ত্রী।
পরে তিনি বলেন, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়নের উপর নজর রাখার জন্য সরকার মনিটরিং সেল তৈরি করে দিয়েছে। ১০ জুন থেকে তা কাজ করতে শুরু করে দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ৫৯৩১টি অভিযোগ সেখানে জমা পড়েছে। কিছু অভিযোগ বা সমস্যার সুরাহাও হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলিরও নিষ্পত্তি দ্রুত হয়ে যাবে।