দ্য ওয়াল ব্যুরো : যেদিন ভবানীপুরে কেন্দ্রের উপনির্বাচন (By election) ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন, সেদিন বিকেলেই তৃণমূলের কর্মীরা হাজরা মোড়ে একটা হোর্ডিং টাঙিয়েছিলেন। তাতে লেখা ছিল, ‘ঘরের মাঠে খেলা হবে।’
একুশের বিধানসভা ভোটের অনেকটা আগেই বাংলা নিজের মেয়েকে চায় স্লোগান এনেছিল তৃণমূল। ভোট ফলাফলে স্পষ্ট বাংলা তাঁকে চেয়েছে। কিন্তু নন্দীগ্রাম মুখ ফিরিয়েছে তাঁর থেকে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লড়তে হচ্ছে ভবানীপুরে। আর সেই উপনির্বাচনের প্রচারেও পাড়ার মেয়ে মমতা তুলে ধরতে চাইছেন তিনি আছেন সবার সঙ্গে।
একদিন নবান্ন থেকে বেরিয়ে চলে গিয়েছিলেন ষোল আনা মসজিদে, দেখা করেছিলেন কয়েকটি দুর্গাপুজোর ক্লাব কর্তাদের সঙ্গেও। তারপর ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর বুধবারের গন্তব্য ছিল হরিশ মুখার্জি রোডের গুরুদ্বার। এদিন ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের কর্মিসভায় গিয়ে রাধাকৃষ্ণের মন্দিরেও পুজো দিয়েছেন দিদি।
অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থী প্রিয়াঙ্কা টিবরেওয়াল রোজই প্রায় হয় কীর্তন করছেন, খোল করতাল বাজাচ্ছেন নয়তো ধুনুচি নাচ করছেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রিয়াঙ্কা আসলে হিন্দু ভোটকে পুঁজি করেই ভবানীপুরের ভোট অঙ্ক কষছেন। মেরুকরণের রাজনীতিতেই গেরুয়াশিবির শান দিচ্ছে বলে তাদের বক্তব্য। সেইসঙ্গে তাঁরা এও বলছেন, মমতা নিজের প্রচারে তুলে ধরতে চাইছেন ঐক্যের ছবি। মেলবন্ধনের কোলাজ।
রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, বিজেপি স্লোগান দিয়েছিল সবকা সাথ সবকা বিকাশ। মমতা তাঁর প্রচারে সেই সবকা সাথের ধারণাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন। বৃহস্পতিবারের প্রচারে গিয়ে কর্মিসভায় মমতা বলেছেন, “আমি মুড়িও খাই, হালুয়াও খাই। আমি রাজস্থানে গেলে আজমেঢ় শরিফেও যাই আবার পুষ্করেও যাই। আমি মসজিদে গেছিলাম বলে বিজেপি নানান কথা বলছে। ওরা নন্দীগ্রামকে পাকিস্তান বলেছিল, এখন ভবানীপুরকেও পাকিস্তান বলছে।”
তৃণমূলকর্মীদের সামনে ভারতবর্ষের বুনিয়াদি ধারণা বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যকেই তৃণমূলের স্লোগান হিসেবে তলে ধরতে চেয়েছেন দিদি। ভবানীপুর কার্যত মিনি ভারত। এই কেন্দ্রে যেমন ২২ শতাংশ সংখ্যালঘু মুসলমান ভোট রয়েছে তেমন ওলিতে গলিতে শিখ পরিবারের বাস। গুজরাতি, রাজস্থানি পরিবারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। আবার বনেদি বাঙালি তো ভবানীপুরের অন্যতম ‘সিম্বল’। তেমন একটি কেন্দ্রে এবার উপনির্বাচনে লড়ছেন মমতা। এর আগেও দু’বার বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই সময়ের সঙ্গে এই সময়ের ফারাক অনেক। অনেকের মতে, বাংলার রাজনীতিতে যে মেরুকরণ তৈরি হয়ে গিয়েছে তা কষ্মিনকালেও ছিল না। ফলে রাজনীতির ময়দানে পোড় খাওয়া মমতাকেও কৌশল করেই ভোটে লড়তে হচ্ছে। সেইসঙ্গে বার্তা দিতে চাইছেন—মেরুকরণের রাজনীতির বিরুদ্ধে ঐক্যই তাঁর হাতিয়ার।