দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাতাসের উষ্ণতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লোকসভা ভোটের প্রচারের তাপ এখন গনগনে। আকাশে কাটাকুটি চলছে, কপ্টার, চার্টার্ড বিমানের। হেলিকপ্টার নিয়ে বাঁকুড়া, বীরভূম, নদীয়ায় প্রচারে বেরিয়েছেন যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
এমনই পরিস্থিতির মাঝে তৃণমূলে তাঁর উত্তরসূরী প্রসঙ্গে প্রশ্নের জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দিলেন, “অভিষেক কেউ না। আমার পরিবার থেকে কেউই নেতৃত্বের ( পড়ুন তৃণমূলের) স্থানে নেই”। তাঁর কথায়, “অভিষেক রাজনীতিতেই আসতে চায়নি। ও অন্য কাজ করছিল। আমিই ওকে রাজনীতিতে নিয়ে এসেছি।” একটি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন মমতা।
কালীঘাটে বন্দ্যোপাধ্যায় পরিবারে পিসির কাছে এই ভাইপোটির স্নেহের জায়গা বরাবরই মজবুত। মমতা যখন সাংসদ বা কেন্দ্রে মন্ত্রী তখন দিল্লিতে পড়াশুনার সময় অভিষেক তাঁর ফ্ল্যাটেই থাকতেন। সাক্ষাৎকারে মমতা আরও বলেছেন, “ওর বয়স যখন দু’বছর, তখন সিপিএম ক্যাডাররা আমাকে নৃশংস ভাবে মেরেছিল। আমি মরে যাচ্ছিলাম। প্রতিবাদে সংসদ মুলতবি হয়ে যায়। আমার ব্রেন সার্জারি হয়। ৪৬টা সেলাই হয় মাথায়।”
দিদির কথায়,“আমার ভাইপো সেই অবস্থায় আমাকে দেখেছিল, এবং ঠিক করে নিয়েছিল যে আমাকে সমর্থন করবে। ও এক জন নির্বাচিত প্রতিনিধি এবং জননেতা।” তৃণমূলে তাঁর উত্তরসূরী এবং অভিষেক প্রসঙ্গে প্রশ্ন করাতেই এ কথা বলেন মমতা।
রাজ্য রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এ প্রশ্ন আগেও উঠেছে। তৃণমূলের অন্দরে অধিকাংশ নেতাই বিশ্বাস করেন, অভিষেকই হলেন বর্তমানে দলের নম্বর-টু। এ ব্যাপারে কোনও সংশয় নেই। দলের বেশিরভাগ নেতা কর্মী শুধু নয়, শীর্ষ আমলা ও পুলিশ কর্তাদের অনেকেই তা বিশ্বাস করেন এবং প্রয়োজন মতো মেনেও চলেন।
যদিও সাক্ষাৎকারে মমতা দাবি করেছেন, দলের পঞ্চম প্রজন্ম পর্যন্ত পরিকল্পনা করে রেখেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের প্রজন্মের যাঁরা, তাঁরা আরও ১৫-২০ বছর ধরে নেতৃত্ব দেবেন। তার পরে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ প্রজন্ম আসবে। আমি এখন পঞ্চম প্রজন্মের ব্যবস্থা করছি”।
আরও পড়ুন: অভিষেকের স্ত্রী প্রেগনেন্ট, ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছে মেয়েটা, সোনা কাণ্ড নিয়ে মুখ খুললেন মমতা
তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূলে দিদির পর অভিষেক যে নেতৃত্বের রাশ অনেকটাই ধরে নিয়েছেন, তা সাদা কালোয় স্পষ্ট। লোকসভা ভোটের প্রচার কৌশল থেকে শুরু করে জেলায় জেলায় ব্যবস্থাপনার কন্ট্রোল রুম এখন তাঁর তত্ত্বাবধানেই রয়েছে। কিন্তু কৌশলে বাইরে সেই বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিতে চান না। কারণ, তিনি জানেন, দলে অভিষেকের তুলনায় বয়সে এবং অভিজ্ঞতায় প্রবীণ বহু নেতা রয়েছেন। রাজনীতিতে তাঁদের নিজ নিজ ইগো-ও রয়েছে।
অভিষেককে আনুষ্ঠানিক ভাবে নেতৃত্বের স্থানে তুলে আনলে দলের মধ্যে পরিবেশ বিগড়ে যেতে পারে। তাই প্রকাশ্যে তিনি বরং বলেন, “অভিষেক কেউ না।” তবে হতেই পারে, উপযুক্ত সময় বুঝে তিনিই আনুষ্ঠানিক ভাবে অভিষেকের উত্তরণ ঘটিয়ে দেবেন।