
শেষ আপডেট: 2 November 2019 13:55
নিহত ছন্দা মাঝির শোকার্ত পরিবার[/caption]
কয়েক দিন আগে দিল্লি থেকে বাড়িতে ফিরেছে রবিন। ফের এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তি হওয়ায় কেতুগ্রামের চড়কিতে বাপেরবাড়িতে চলে যান ছন্দা। শুক্রবার সকালের দিকে শ্বশুরবাড়িতে ফোন করে ছন্দাকে তাঁর বাড়িতে পৌঁছে দিতে বলে রবিন। ছন্দার এক সম্পর্কিত বৌদি তাঁকে নিয়ে রবিনের বাড়িতে যান।
অভিযোগ, তাঁরা পৌঁছাতেই ছন্দাকে জোর করে বাড়ির ভিতরে ঢুকিয়ে নেয় রবিন। ছন্দার বাপের বাড়ির লোককে মেরে দেওয়ার হুমকি দেয়। সঙ্গে সঙ্গেই আত্মীয়দের এ কথা ফোন করে জানান সম্পর্কিত ওই বৌদি। আত্মীয়রা এলে তাঁদেরও একই হুমকি দেয় রবিন। এরপর বাড়ির ভিতর থেকেই ছন্দা তাঁর বাপের বাড়ির লোকজনকে বলেন চলে যেতে। তাঁর কথা শুনে পরিবারের লোকজন ফিরেও যান।
সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন ফোন করেন ওই গ্রামের এক পরিচিতের বাড়িতে। জানতে চান ছন্দা কেমন আছে। তখনই জানতে পারেন যে ছন্দা অসুস্থ হওয়ায় তাঁকে কাটোয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে ওই আত্মীয়ের কাছেই জানতে পারেন, চড় মারা হয়েছিল ছন্দাকে।
ছন্দার পরিবারের লোকেরা রাতেই কাটোয়া হাসপাতালে যান, সেখানে গিয়ে তাঁরা ছন্দাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ছন্দা মারা গেছে শুনেই হাসপাতাল থেকে রবিন চম্পট দিয়েছে বলে জানতে পারেন ছন্দার পরিবারের লোকজন।
শনিবার ময়না তদন্তের কথা থাকায় ছন্দার বাপের বাড়ির পরিবার ও আত্মীয়রা কাটোয়া হাসপাতালে ভিড় করতে শুরু করেন সকাল থেকেই। বেলা এগারোটা নাগাদ রবিন ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন লোক হাসপাতালে হাজির হয়। তখনই রবিন মাজিকে আটক করে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ। তাকে গাড়িতে তুলে হাসপাতাল ছেড়ে চলে যায়।
তার কিছুক্ষণ পরে ছন্দার বাপের বাড়ির লোকজনের সঙ্গে রবিনের বাড়ির লোকজনের বাদানুবাদ শুরু হয়। এক পরে ছন্দার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে হাসপাতাল চত্বরে রবিনের পরিবারের দু’জনকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করে।
পুলিশ দ্রুত এসে প্রহৃতদের উদ্ধার করে সরিয়ে নিয়ে যায়। কেতুগ্রাম থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে ছন্দার পরিবার। তদন্ত শুরু করেছে কেতুগ্রাম থানার পুলিশ।