কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুন করে নিহত স্ত্রীকেই দায়ী করলেন স্বামী
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: স্ত্রীকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল স্বামীকে। এই খুনের জন্য অভিযুক্ত স্বামীর রোজগার না থাকা দায়ী নাকি নিহতের সঙ্গে কারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেই এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহতে
শেষ আপডেট: 6 February 2020 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: স্ত্রীকে কাটারি দিয়ে কুপিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার করা হল স্বামীকে। এই খুনের জন্য অভিযুক্ত স্বামীর রোজগার না থাকা দায়ী নাকি নিহতের সঙ্গে কারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক ছিল বলেই এই ঘটনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
নিহতের নাম পিয়ালি দে (২৯), অভিযুক্ত স্বামীর নাম দেবব্রত দে। গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের সারিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকা আমড়াশোল গ্রামের ঘটনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দেবব্রত দীর্ঘদিন ধরে কোনও কাজকর্ম করতেন না ফলে অভাবের মধ্য দিয়ে সংসার চালাচ্ছিলেন পিয়ালি। তাঁদের দুই ছেলে আছে, এক জনের বয়স দশ বছর ও অন্য জনের ছ’বছর।
দেবব্রতর কাজ না করা ও সংসারে টাকা না দেওয়া নিয়ে বুধবার সন্ধ্যা থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বচসা শুরু হয়। রাত বারোটা নাগাদ তাঁদের বচসা চরম আকার ধারণ করে। অভিযোগ, সেই সময় বাড়িতে থাকা একটি কাটারি দিয়ে পিয়ালিকে পিছন থেকে কোপ মারেন দেবব্রত। তাঁকে বাধা দিতে গিয়ে পিয়ালির শাশুড়ির হাতেও কাটারির আঘাত লাগে। কাটারি দিয়ে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গেই মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন পিয়ালি।

পিয়ালির বাড়ি থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে ঝাড়খণ্ডের বড়শোল থানার মহিষামুড়া গ্রামে পিয়ালির বাপের বাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে পিয়ালির বাবা বিনয়কুমার ভোল চলে আসেন। পিয়ালিকে উদ্ধার করে গোপীবল্লভপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
বিনয়কুমার ভোল পিয়ালির স্বামীর বিরুদ্ধে গোপীবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। অভিযোগ পেয়ে গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশ গিয়ে দেখেন গ্রামবাসীরা দেবব্রতকে বাড়িতেই আটকে রেখেছেন। সেখান থেকে দেবব্রতকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই খুনের ঘটনায় স্ত্রীকেই দায়ী করেছেন দেবব্রত। তাঁর অভিযোগ, পিয়ালির সঙ্গে কারও বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক রয়েছে – এই সন্দেহে তাঁদের দু’জনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়াঝাঁটি হত। এদিনও এই কারণেই তাঁদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়েছিল বলে দাবি দেবব্রতর।
এই খুনের আসল কারণ কী তা এখনও পরিষ্কার হয়নি গোপীবল্লভপুর থানার পুলিশের কাছে। দেবব্রতর বিরুদ্ধে ৪৯৮ ধারায় বধূ নির্যাতন, ৩২৬ ধারায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত, ৩৯৭ ধারায় খুনের চেষ্টা ও ৩০২ ধারায় খুনের মামলা রুজু করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত দেবব্রত দেকে আদালতে তুলে ১০ দিনের পুলিশ হেফাজত চাওয়া হয়, তা মঞ্জুর করে ঝাড়গ্রাম আদালত।