দ্য ওয়াল ব্যুরো, মালদা: বাড়িতে বিবাহিত স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছিল খুরশেদ মমিনের বিরুদ্ধে। স্ত্রীর সঙ্গে ঝামেলা, অশান্তি লেগেই থাকত। শেষপর্যন্ত গ্রামের লোক সালিশি সভা বসায় সোমবার। আর সেখানেই নিজের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেন খুরশেদ।
গোটা ঘটনায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে মালদার মানিকচক থানার নূরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্বামী খুরশেদ মমিন ভর্তি মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে । তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্কের সন্দেহে স্ত্রী অসমেরি বিবির সঙ্গে বেশ কিছু দিন ধরেই গণ্ডগোল চলছিল খুরশেদের। সেই নিয়েই সোমবার সালিশি সভা বসে গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই সালিশি সভায় সবার সামনেই স্বামীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন স্ত্রী। এর পরই আত্মসম্মানে আঘাত লাগায় নিজের যৌনাঙ্গ কেটে ফেলেন স্বামীর।
নূরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শ্যামলাল পাড়া গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ছোট ব্যবসায়ী খুরশেদ। বছর খানেক আগে পুকুরিয়া থানার চাঁদপুর এলাকার আসমেরি বিবির সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। তবে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে মাস কয়েক ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল অশান্তি চলছিল বলে জানা গিয়েছে।
আহত স্বামী খোরশেদ মমিন হাসপাতালে শুয়েই বলেন, স্রেফ সন্দেহের বশেই দিনের পর দিন তাঁর উপর মানসিক নির্যাতন চলছে। পাল্টা স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে মানিকচক থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন স্ত্রী অসমেরি বিবি। মানিকচক থানায় স্বামীর বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি। এপ্রসঙ্গে স্ত্রী বলেন, অন্য মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে তাঁর স্বামীর। সে কথা জেনে যাওয়ার কারণেই অত্যাচার চালাত তাঁর উপর। কারণেই অত্যাচার চালাত।
ঘটনার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় খুরশেদকে প্রথমে মানিকচক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করতে হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মানিকচক থানার পুলিশ।