দ্য ওয়াল ব্যুরো: “আমি তো অনশনে বসতে বলিনি ওদের, ওরা বুঝবে কী সিদ্ধান্ত নেবে। আমি কেন কথা বলব!“—পার্শ্বশিক্ষকদের অনশন ও আন্দোলন প্রসঙ্গে এমনই প্রতিক্রিয়া দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
সমকাজে সমবেতনের দাবিতে সল্টলেকে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থান শুরু করেছিলেন পার্শ্বশিক্ষকরা। ধর্না মঞ্চ পরবর্তী কালে পরিবর্তিত হয় অনশন মঞ্চে। সেই অনশনের আজ ১৩ দিন হল। ইতিমধ্যেই একাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। হাসপাতালে কয়েক দিন ভর্তি থাকার পরে ফের অনশনে যোগ দিয়েছেন ছ’জন। অনশন মঞ্চ থেকে ফেরার পথে মৃত্যুও হয়েছে এক শিক্ষিকার। ক্রমেই বাড়ছে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের আঁচ।
এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করলেন, সরকার সব রকম ভাবেই সহানুভূতিশীল পার্শ্বশিক্ষকদের প্রতি। তিনি জানান, ২০১৮ সালেই তাঁদের ভাতা, বেতন, ইপিএফ, মেডিক্যাল সুবিধা— সব কিছু বাড়ানোর পরেও ২০১৯ সালে তাঁদের ফের আন্দোলনে সামিল হওয়া অযৌক্তিক।
পার্থ আরও জানান, পার্শ্বশিক্ষকেরা যে দাবি করেছেন কেন্দ্রের তরফে তাঁদের জন্য টাকা আসে কিন্তু রাজ্য সরকার দেয় না, এটি সম্পূর্ণ অসত্য। এরকম মিথ্যে দাবি প্রচার করে পার্শ্বশিক্ষকদের ছাত্রছাত্রীর থেকে দূরে রাখা ঠিক হচ্ছে না বলে জানান পার্থ। তাঁর কথায়, “শিক্ষকদের ক্ষতি করার কোনও মানসিকতা নেই সরকারের। আমরা চাই তাঁরা সুস্থ শরীরে কাজে ফিরুন। তাঁরা যদি নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন, তাহলে সেই নথিপত্র নিয়ে আমার দফতরে আসুন, আমি দেখব।”
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, তাঁরা একাধিক বার স্মারকলিপি দিয়ে সরকারিভাবে অভিযোগ পেশ করতে চাইলেও মন্ত্রীর সাড়া মেলেনি। তাই বাধ্য হয়েই বেতন কাঠামো তৈরি থেকে পূর্ণ শিক্ষকের মর্যাদা—একাধিক দাবিতে অনশনে বসেছেন পার্শ্বশিক্ষকরা।
সংগঠনের অন্যতম নেতা ভাগীরথ ঘোষ বলেন, “২০০৯ সালে রানি রাসমণি রোডে আমাদের একটি সমাবেশে তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি সরকারে এলে প্রথমে আমাদের স্থায়ীকরণের কাজ করবেন। কিন্তু তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বের আট বছর হয়ে গেল। এখনও কথা রাখেননি তিনি।”
রাজ্যে মোট ৪৮ হাজার পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন। বিকাশ ভবনের সামনের অবস্থানে যোগ দিয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক। ৪৬ জন অনশন করছেন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা। শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, গত ১১ তারিখের পরেও তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার। কিন্তু সরকারের কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই বলে দাবি তাঁদের।
গত জুলাই মাসে দীর্ঘ অনশনের পর জয় পেয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। দাবি ছিল গ্রেড পে বাড়াতে হবে। শেষমেশ আন্দোলনের তীব্রতার সামনে মাথা ঝোঁকাতে হয় সরকারকে। ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড হয় ৩৬০০ টাকা। কিন্তু তার পর অন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দু'সপ্তাহ আগেই শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল বাঘাযতীন এলাকা। শিক্ষকদের মিছিল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে এগোতে শুরু করলে তা আটকে দেয় পুলিশ। তা নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রেফতারও করা হয় বেশ কয়েক জন শিক্ষক আন্দোলনের নেতানেত্রীকে। এবার ফের আন্দোলনের ময়দানে পার্শ্বশিক্ষকরা। বিকাশভবনের সামনেই।
তবে ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও বিকাশ ভবনের অদূরে চলা অবস্থান-অনশনের পরিস্থিতি এতটুকু বদলায়নি।