
শেষ আপডেট: 9 July 2023 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছিল তাঁর উপর। তখন ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে হিংসার ঘটনা দেখেছেন তিনি। এখন অবশ্য তিনি বিধায়ক, রাজ্যের মন্ত্রী। কিন্তু এত বছর পরেও ভোটের সময় সেই একই রকম লাগামহীন সন্ত্রাস, হিংসার ঘটনা (election violence) নিয়ে তিনি লজ্জিত, মর্মাহত, ক্ষুব্ধ! বাঙালি হিসেবে নাকি মাথা হেট হয়ে যাচ্ছে তাঁর! পঞ্চায়েত ভোট মিটতেই এমন বিস্ফোরক দাবি করলেন ডেবরার বিধায়ক তথা প্রাক্তন আইপিএস অফিসার হুমায়ুন কবীর (Humayun kabir)।
রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই জেলায় জেলায় একাধিক হিংসাত্মক হামলার ঘটনার খবর মিলেছিল। তাতে বহু প্রাণহানি হয়েছিল। শুধু আগেই হয়, ভোটের দিনেও বিভিন্ন জেলা মিলিয়ে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেই ঘটনা নিয়েই এবার মুখ খুলেছেন হুমায়ুন। তাঁর প্রশ্ন, 'অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন রক্তপাতহীন পঞ্চায়েত ভোট হবে। কিন্তু হল কই?'
রাজ্যজুড়ে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই হিংসাত্মক হামলার ঘটনায় একজন বাঙালি হিসেবে তিনি লজ্জিত, মর্মাহত বলে দাবি করেছেন ডেবরার বিধায়ক। শনিবার ভোটগ্রহণের সময়ও তিনি ডেবরাতেই ছিলেন। তাই সারাদিন সেভাবে খবর পাননি। কিন্তু পরে ফিরে যখন সবটা শোনেন তখন আঁতকে ওঠেন, দাবি হুমায়ুনের।
এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ২০০৮ সালে বাম আমলে ভোটের সময় হিংসা, প্রাণহানির ঘটনার কথাও উল্লেখ করেছেন হুমায়ুন। তিনি তার আগে ছিলেন কান্দির এসডিপিও। সেবারে শুধু মুর্শিদাবাদে ভোটের দিন ২২ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বোমার আঘাতে এক মহিলার মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর তিন সন্তান যখন মায়ের মৃতদেহের উপর হামলে পড়ে কাঁদছিল, সেই দৃশ্য তাঁকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছিল, জানিয়েছেন হুমায়ুন। সেই ঘটনার এত বছর পরেও একই জিনিস ঘটে চলেছে, তাতেই ক্ষুব্ধ প্রাক্তন এই আইপিএস অফিসার।
তাঁর দাবি, এই সন্ত্রাসের দায় প্রত্যেকটা রাজনৈতিক দলের। সেই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন এবং পুলিশও দায়ী। প্রশাসন এবং পুলিশ আগে থেকে সক্রিয় থাকলে এত মৃত্যু, এত হিংসা এড়ানো যেতে পারত বলে মনে করছেন তিনি। 'বাম আমলে তো প্রচুর খুনোখুনি হয়েছে, সেটাকে আমরা জিরো করতে পারছি না কেন?' প্রশ্ন তাঁর।