দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: সাধারণ হুইল ছিপ বলে আর অশ্রদ্ধা করা যাবে না তাকে। কারণ এই হুইল ছিপের কেরামতিতেই ধরা পড়লো ১২ কিলো ওজনের প্রায় রাক্ষুসে চেহারার এক বিশাল চিতল মাছ। শনিবার সকালে বিরাট চেহারার এই মাছটিকে একঝলক দেখার জন্য হৈচৈ পড়ে যায় জলপাইগুড়ি রাজবাড়ি পাড়া এলাকায়।
১২ কেজি ওজনের এই চিতল মাছটিকে ছিপে গেঁথেছেন যিনি, সেই বাপ্পা দাসও এখন একালার সুপরিচিত নাম। জলপাইগুড়ি ভাটাখানা এলাকায় বাসিন্দা বাপ্পাবাবু দীর্ঘদিন ধরেই শখের মৎস শিকারী। প্রায় প্রতিদিন সকাল বিকাল নিয়ম করে জলপাইগুড়ির রাজবাড়ি দিঘিতে মাছ ধরেন তিনি।
১৯এ সেপ্টেম্বর শনিবারও মাছ ধরার নেশার টানে সাতসকালেই দিঘিতে এসে ছিপ ফেলে বসেন বাপ্পাবাবু। ধৈর্য জিনিসটা মাছশিকারের জন্য খুব দরকার, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় সে কথা জানেন বাপ্পাবাবু। প্রায় তিরিশ মিনিট ধৈর্য ধরে বসে থাকার পর তিনি বুঝতে পারেন কিছু একটা গেঁথেছে ছিপে। ফাৎনা নড়ার ধরণেই বোঝেন ছিপে গাঁথা মাছটি আকারে বেশ বড়। কিন্তু সেটা যে ১২ কেজি ওজনের পেল্লায় চিতল মাছ হতে পারে, সে কথা ভাবতেও পারেননি এই ঘাঘু মাছশিকারী। কিন্তু অতবড় মাছ একটানে তোলা অসম্ভব। তাতে ছিপ ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। তাই এরপর প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে জলের মধ্যে মাছ খেলানোর কাজ। তিনঘণ্টা পর মাছটি ক্লান্ত হয়ে পড়লে তাকে টেনে পুকুর পাড়ে তোলেন তিনি।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসার উত্তরে এদিন বাপ্পা দাস জানেন, এই দিঘিতে কয়েকটি বেশ বড় চিতলমাছ আছে বলে শুনেছিলেন তিনি। কিন্তু গত চল্লিশ বছরে সচক্ষে কাউকে এত বড় মাছ ধরতে দেখেননি। গর্বিত বাপ্পাবাবু এও বলেন, "এটা একটা স্মরণীয় দিন। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় মাছটি আজ ধরলাম।"
সকাল থেকেই ওই এলাকায় এই রাক্ষুসে মাছের সঙ্গে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়।বারো কিলো ওজনের এই বিশাল চিতল মাছটি নিয়ে কী করবেন জিজ্ঞাসা করা হলে বাপ্পাবাবু বলেন, আপাতত বাড়ি নিয়ে গিয়ে টুকরো করে আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলি করবেন বলেই ভেবেছেন তিনি।