
শেষ আপডেট: 22 June 2022 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনে কয়েক আগেই মালদহে ঘটে গিয়েছিল ঠিক একই ঘটনা। বুধবার পূর্ব বর্ধমানে ঘটল তারই পুনরাবৃত্তি। উচ্চমাধ্যমিকে (HS student) অনুত্তীর্ণ ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। পাশের দাবিতে তিনিও আন্দোলন করছিলেন। বুধবার পূর্ব বর্ধমানের গুসকরা কলেজ মোড় এলাকার এক বাড়ি থেকে উদ্ধার হল ওই ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ! তবে কী কারণে আত্মহত্যা (HS student Suicide) তা স্পষ্ট না হলেও প্রাথমিক অনুমান, পাশ করতে না পারায় মানসিক অবসাদের জেরেই এমন কাণ্ড ঘটিয়েছেন ওই ছাত্রী।
গুসকরার এই ঘটনা সামনে আসতেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয় সূত্রে খবর, এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর শেখ ও রাজেমা বিবি শেখের মেয়ে ছিলেন রাজিয়া খাতুন। গুসকারা বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী ছিলেন তিনি। ইচ্ছে ছিল বর্ধমানের কলেজে ভর্তি হবেন। কিন্তু ফল বেরোনোর পর তাঁর সেই ইচ্ছে মরতে বসেছিল। দুই বিষয়ে ফেল করায় অনুত্তীর্ণ হন তিনি। তাই অনেকের মতই পাশের দাবিতে পথে নেমেছিলেন তিনি।
কিন্তু হাজারো আন্দোলনের পরেও মেলেনি কোনও সুরাহা। তাই কি এমন পথ বেছে নিলেন তিনি? রাজিয়ার বাবা মুজিবুর কান্না ভেজা গলায় জানান, "সকালে যখন কাজে বেড়িয়ে যাই তখন দেখি মেয়ে বই বের করে পড়ছে। পরে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে দেখি মেয়ে গলায় দড়ি দিয়েছে। পরীক্ষায় পাশ করতে পারেনি। মানসিক হতাশায় ভুগছিল। তবে এমন করবে ভাবিনি।"
পরিবার সূত্রে খবর, নিজের ঘরেই সকলের নজর এড়িয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেন রাজিয়া। ঘটনাটি নজরে আসতেই তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাঁকে।
রাজিয়ার মায়ের কথায়, "মেয়ে পাশ করতে না পারায় ভেঙে পড়েছিল। গুসকরায় যখন আরও অনেক ছাত্র-ছাত্রীরা পাশ করানোর জন্য আন্দোলন করছিল তখন আমার মেয়েও ছিল।"
দিন কয়েক আগেই মালদহের হবিবপুরের আরএন রায় গার্লস হাইস্কুলের শম্পা হালদারও এমন ভাবেই আত্মঘাতী হয়েছিলেন। গত শনিবার বাড়ির চিলেকোঠায় শম্পার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কয়েক দিনের ব্যবধানে একই ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানে (East Bardhaman)।