
সংগৃহীত ছবি
শেষ আপডেট: 23 December 2024 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাবা ব্যবসায়ী। এলাকায় প্রতিপত্তি রয়েছে। আর্থিকভাবে পরিবারের অবস্থা বেশ ভালই। টাকা চাইলে তা দিতে খুব বেশি ঝক্কি পোহাতে হবে না। মালদহর মেয়েটিকে কিডন্যাপ করার সময় এই তথ্যগুলোই মাথায় ঘুরছিল অভিযুক্তদের। কিডন্যাপ করে বিহারে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু পুলিশ চাইলে কি না করতে পারে। একদম ফিল্মি কায়দায় মাত্র সাড়ে চার ঘণ্টায় মেয়েটিকে উদ্ধার করল তারা।
২২ ডিসেম্বর, শনিবার বেলা ১১টা ৪০। বাইকে করে দু'জন আসে মেয়েটির বাড়িতে। বাড়ির সামনে থেকে তুলে নিয়ে যায়। আগে থেকেই লক্ষ্য করছিল তারা কারণ কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধাওয়া হয়ে যায় এলাকা থেকে। ওই বাড়ি ও মেয়েটির গতিবিধিও আগে থেকে রেইকি করে রেখেছিল বলে মনে করছে পুলিশ।
তুলে নিয়ে যাওয়ার পর হিসাব মতো ফোন আসে মেয়েটির বাবার কাছে। চাওয়া হয় টাকা। পুলিশে খবর দিলে মেয়ের যখন তখন কিছু হয়ে যেতে পারে। এমন হুমকি দেওয়া হয়।
মেয়েটির বাবা অবশ্য পুলিশে গোটা বিষয়টি জানায়। পুলিশ পদক্ষেপ করে। এক্ষেত্রে একদম বিচক্ষণভাবে পুলিশ আধিকারিকরা ফোনের লোকেশন ট্র্যাক করেন। বিহার-বাংলা সীমান্তে লোকেশন দেখে তারা সেখানকার পুলিশে খবর দেয়।
মালদহ পুলিশ ইসলামপুর, রায়গঞ্জের পুলিশকেও সতর্ক করে বিষয়টি নিয়ে। লোকেশন ট্র্যাকে রাখা হয়। তারপরই একাধিক থানার প্রচেষ্টায় মালদহ পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে। দুই অভিযুক্ত ইজাস আহমেদ ও রাজু মুস্তফাকে গ্রেফতার করা হয়। জানা যায়, তারা মালদহর হরিশ্চন্দ্রপুর এলাকার বাসিন্দা।
ধৃতদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানিয়েছে, ইটাহার হয়ে বিহারে পালানোর ছক ছিল তাদের। করণদিঘি, ডালখোলা, ইটাহার এই রুটই ব্যবহার করত তারা। টাকা আদায়ই মূল লক্ষ্য ছিল বলে জানিয়েছে।
ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির বেশ কয়েকটি মামলায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে।