গৃহবধূকে পিটিয়ে কীটনাশক খাইয়ে শ্বাসরোধ করে খুন
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া রায়পুরে এক তরুণীকে পিটিয়ে মেরে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শ্বশুরবাড়ির চাহিদা মতো টাকা ও জমি ওই তরুণীর বাড়ির লোক দিতে না পারাতেই তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি বলে মনে করছেন এ
শেষ আপডেট: 21 January 2020 07:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের হরিহরপাড়া রায়পুরে এক তরুণীকে পিটিয়ে মেরে মুখে বিষ ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। শ্বশুরবাড়ির চাহিদা মতো টাকা ও জমি ওই তরুণীর বাড়ির লোক দিতে না পারাতেই তাঁর এই মর্মান্তিক পরিণতি বলে মনে করছেন এলাকার লোকজন। ওই গৃহবধূর নাম সেলিনা বিবি, বয়স পঁচিশ বছর।
আট বছর আগে রায়পুর গ্রামের ইউনুস শেখের সঙ্গে দেখাশোনা করে বিয়ে হয় পাশের রায়পুর বাগানপাড়ার সেলিনার। ইউনুস দিনমজুর। বিয়ের সময় পণ হিসাবে জমি ও টাকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেলিনার বাবা আব্বাসউদ্দিন শেখ। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণের বকেয়া টাকা ও জমির জন্য শ্বশুরবাড়ির লোকজন চাপ দিতে থাকে সেলিনার উপরে। সেলিনা তাঁর বাবাকে সে কথা জানান। এলাকার জানিয়েছেন, সেলিনারা চার ভাইবোন। আগেভাগে সেলিনাকে জমির ভাগ না দিয়ে কিছুদিন পরে একসঙ্গে চারজনকে জমি ভাগ করে দেওয়ার কথা বলেন আব্বাসউদ্দিন। সাময়িক ভাবে সমস্যা মিটলেও বাস্তবে দেখা যায় সময় গড়াতে থাকলেও জমি ভাগ-বাঁটোয়ারা করার ব্যাপারে তাঁর কোনও তৎপরতাই ছিল না।

পণের টাকা ও জমি না পাওয়ায় সেলিনার উপরে অত্যাচার শুরু হয়। তাঁকে নিয়মিত মারধর করা শুরু করে ইউনুস। সেলিনা তাঁর মা-বাবার কাছে বার বার বললেও তাঁরা কোনও দিনও জমি ভাগের ব্যাপারে উদ্যোগী হননি। বছর চারেক আগে সেলিনার একটি কন্যাসন্তান হয়। কিন্তু তার পরেও অত্যাচার থামেনি।
সোমবার রাতে অত্যাচার একেবারে মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
আব্বাসউদ্দিন শেখ জানিয়েছেন, ভোরের দিকে ইউনুস তাঁকে খবর দেয় যে সেলিনা বিষ খেয়েছে, তাঁরা যেন এসে সেলিনাকে নিয়ে যান। আব্বাসউদ্দিন ও তাঁর বাড়ির লোকজন এসে দেখেন সেলিনার শরীরে, বিশেষ করে পায়ে রক্তের দাগ, সারা শরীরে মারের আঘাতের দাগ। তখনই তাঁরা সেলিনাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা সেলিনাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। আব্বাসউদ্দিনের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে পিটিয়ে গলায় বিষ ঢেলে তারপরে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। সেলিনার মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন তাঁর বাপের বাড়ির লোকজন।
সেলিনার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। হরিহরপাড়া থানায় ইতিমধ্যেই খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে সেলিনার বাপেরবাড়ির লোকজন। ঘটনার পর থেকেই ইউনুস খান, তার মা-বাবা ও পরিবারের অন্য লোকজন পলাতক। তাদের শিশুকন্যা আপাতত মামারবাড়িতেই রয়েছে।