
শেষ আপডেট: 15 December 2023 13:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: স্বাস্থ্যসাথী কার্ড হাতে নিয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন জলপাইগুড়ির বাসিন্দা। এসে জানতে পারলেন তিনি মৃত। তাই পরিষেবা মিলবে না। বিনামূল্যে পরিষেবা না পেয়ে ধারকর্জ করে চিকিৎসা করিয়ে এখন জলপাইগুড়ি ফিরে স্বাস্থ্য দফতরের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি।
জলপাইগুড়ি শহরের লক্ষ্মণ মৌলিক সরণীর বাসিন্দা বছর ৬৭র সৌমিত্র বসাক। পেশায় সাংবাদিক। সম্প্রতি তাঁর হার্টের সমস্যা দেখা দেয়। অ্যানজিওগ্রাফ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। যেহেতু এই পরিষেবা জলপাইগুড়িতে পাওয়া যায় না, তাই তিনি মনস্থির করেন কলকাতায় গিয়ে করাবেন। এরপরেই বাঁধে বিপত্তি। স্বাস্থ্যসাথী কার্ডটিই বাড়িতে খুঁজে পাননি। থানায় অভিযোগ দায়েরের পরে নতুন করে আবেদন করেন। মেলে কার্ড। তারপরেই রওনা দেন কলকাতা।
বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে যান। সেখানে তিনি তাঁর নতুন কার্ড জমা দেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে ডেকে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এরপর তার হাতে একটি জেরক্স কপি ধরিয়ে দিয়ে বলা হয় স্বাস্থ্য সাথী কার্ড অনুযায়ী তিনি মৃত। তাই এই কার্ডের পরিষেবা তাঁকে দেওয়া যাবে না। শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাঁর। এরপর ধার করে অ্যানজিওগ্রাফ করিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। শুক্রবার গোটা বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানাতে স্বাস্থ্য দফতরের দ্বারস্থ হলেন তিনি।
সৌমিত্র বসাক বলেন, “আমি যখন নতুন কার্ড বানাতে এলাম তখন আমার থেকে ৬০ টাকা নেওয়া হয়। কিন্তু আমাকে কোনও রসিদ দেওয়া হয়নি। নতুন কার্ড হাতে দিয়ে বলা হয় আপনি এখন বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন। কিন্তু কলকাতায় গিয়ে আমি জানতে পারলাম স্বাস্থ্যসাথী কার্ড অনুযায়ী আমি মৃত। দফতরের গাফিলতির জেরে আমি চূড়ান্ত হয়রানির শিকার হই। আজ আমি ফের এই দফতরে এলাম। আমার অভিযোগ জমা নেওয়া হয়েছে।”
জলপাইগুড়ি স্বাস্থ্যসাথীর কিয়স্ক ম্যানেজার কৌশিক বিশ্বাস জানিয়েছেন তাঁরা সৌমিত্রবাবুর অভিযোগ পেয়েছেন। দ্রুত সমস্যা মিটিয়ে দেওয়া হবে।