উল্টোদিকের দরজা দিয়ে ঝোপের মধ্যে লাফালাম, মহিলারা হাউহাউ করে কাঁদছেন
শুভদীপ ভট্টাচার্য (বোমা আক্রান্ত ট্রেনের আতঙ্কিত যাত্রী)
মাঝে মাঝে গুলিয়ে যাচ্ছে, এটা কাঁকিনাড়া না কাশ্মীর!
উন্মত্ত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চলছে শহরে। আজ যে ঘটনা ঘটল, তাতে গণহত্যা হতে পারত ট্রেনের কামরায়। উন্মত্ত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চলছে। প্রশা
শেষ আপডেট: 21 May 2019 08:38
শুভদীপ ভট্টাচার্য (বোমা আক্রান্ত ট্রেনের আতঙ্কিত যাত্রী)
মাঝে মাঝে গুলিয়ে যাচ্ছে, এটা কাঁকিনাড়া না কাশ্মীর!
উন্মত্ত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চলছে শহরে। আজ যে ঘটনা ঘটল, তাতে গণহত্যা হতে পারত ট্রেনের কামরায়। উন্মত্ত দুষ্কৃতীদের তাণ্ডব চলছে। প্রশাসন কার্যত নাজেহাল। আর সাধারণ ট্রেনযাত্রীরা মৃত্যু হাতে নিয়ে ট্রেনে উঠছেন।
ভাটপাড়া উপনির্বাচনের আগের রাত থেকে এলাকায় আগুন জ্বলছে। বোমার পর বোমা, গুলির পর গুলি। রাজনীতির বাইরে গিয়ে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য রঙ। সোমবারও অবরোধের কারণে অফিস পৌঁছতে দুপুর গড়িয়ে গিয়েছিল। আজ যাতে ঝক্কি না পোহাতে হয়, তাই সকাল ৮টা ১৫ তে বাড়ি থেকে বেরোই ট্রেন ধরার জন্য। ট্রেন না পেলে বাসে অটোতে যেতে হবে। অফিস তো আর শুনবে না। সাড়ে আটটায় পৌঁছলাম স্টেশনে। নৈহাটি লোকাল সবেমাত্র ছেড়ে বেরিয়ে গেছে। পরের শান্তিপুর লোকাল ধরে অফিস যাব ভেবেছিলাম। সেই মতো ট্রেন ধরে খানিকটা এগোতেই, কাঁকিনাড়ায় অবরোধ। আজ আবার। সেই একই কারণে। আজ রেল এবং রাস্তা, দুটোই বন্ধ। নৈহাটি লোকালকে আটকে দিয়েছে কাঁকিনাড়া এবং জগদ্দলের মাঝের একটা রেলগেটে। পিছনে আমাদের শান্তিপুর লোকাল।
আরও পড়ুন :
কাঁকিনাড়ায় ট্রেন লক্ষ্য করে পরপর বোমা, বরাতজোরে বাঁচলেন যাত্রীরা
যত সময় এগোতে থাকে, শুরু হয় ট্রেনযাত্রীদের উপর আক্রমণ। পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য অনেকেই তখন ভিডিয়ো তুলতে শুরু করেন। অফিসে পাঠাতে হবে। ছবি তুলতে দেখেই ট্রেনযাত্রীদের লক্ষ্য করে পাথর বৃষ্টি শুরু করে ওরা। আমরা তখন দিশেহারা। কেউ ট্রেনের সিটের নীচে সিঁটিয়ে গিয়েছেন, কেউ দুমদাম জানলা বন্ধ করছেন। ট্রেনের গায়ে তখন অবিরাম পাথর এসে পড়ছে। আপ-ডাউন সব ট্রেন বন্ধ। ফিরে আসার উপায়ও নেই। পাথর বৃষ্টি খানিকক্ষণ চলার পর তা বন্ধ হয়। কিন্তু তারপরই সেই ভয়ানক ঘটনা।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার পর ন’টা নাগাদ অ্যানাউন্স করা হল, ট্রেন ছাড়া হবে। সঙ্গে সঙ্গে বোমার পর বোমা পড়তে শুরু করল ট্রেনের সামনে। বুঝতেই পারলাম না কী হচ্ছে। উল্টোদিকের দরজা দিয়ে ঝোপের মধ্যে লাফিয়ে নেমে পড়ি। আমার সঙ্গে আরও অনেকে। পালাতে হবে। জীবনের ঝুঁকির থেকে তখন বড়, এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি। আর কোনও পথ নেই। পুলিশ নেই। মহিলারা হাউহাউ করে কাঁদছেন। বয়স্করা অত উঁচু থেকে ঝাঁপও দিতে পারছেন না। ভয়ানক পরিস্থিতি। ট্রেন থেকে নেমে রেল লাইন ধরে ছুটতে শুরু করি। কোনও রকমে লাইনের ধারের একটি রাস্তায় নামি।
ভোট পরবর্তী হিংসা অব্যাহত এখানে। রাজনীতির বাইরে এখন অন্য ইস্যু। এখনও ভোটের ফলাফল ঘোষণা বাকি। মানুষ আতঙ্কিত। কেউই জানে না পরের মুহূর্তে কী ঘটতে চলেছে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে অফিস পৌঁছলে মনে হয় যাক কয়েক ঘণ্টা নিশ্চিন্ত। তারপর আবার ফেরার চিন্তা। প্রশাসন নীরব। প্রকাশ্য রাস্তায় চলছে মাফিয়ারাজ। একদিকে ক্ষমতার নোংরা লড়াই অন্যদিকে মানুষের আতঙ্ক, এই দুইয়ের যোগ ফল এখন ভাটপাড়া।
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/21-05-2019-distnews-extreme-tension-at-naihati-bomb-attack-aiming-the-train/