
শেষ আপডেট: 15 December 2022 08:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হাওড়া: খর রোদই বেঁচে থাকার একমাত্র শর্ত শাকিলার ( Homeless Asha Worker ) শাকিলার মাথার উপর ছাদ নেই, কার পাকা বাড়ি লাগবে খুঁজতে বেরিয়েছেন গ্রামে গ্রামে। একটু বৃষ্টিতেই যে ভাঙা টালি আর ছেঁড়া পলিথিনের ছাউনি ভেদ করে অঝোরে ঝরতে থাকে জল। পরিবার সমেত বিছানা-পাটি নিয়ে তখন আশ্রয় নিতে হয় খাটের নীচে। ওদিকে হেমন্ত এলেই শিশিরে ভিজতে থাকে দিন গুজরানের সামগ্রীগুলি। একটা পাকা ছাদের স্বপ্ন দেখতে দেখতেই এভাবেই কেটে যায় শাকিলা, তাঁর অসুস্থ স্বামী আর ছোট্ট মেয়ের জীবনের প্রয়োজনীয় বসন্তগুলি। অথচ সমীক্ষায় বেরিয়ে দেখছেন বাহারি পাথরে সাজানো ঘরের মালিকও সুবিধা পাচ্ছেন আবাস যোজনার ( Awas Yojana Survey )। তবে শাকিলা বা তাঁর স্বামীর নাম নেই সেখানে।
শাকিলা খাতুন আশাকর্মী। শ্যামপুর-চাঁপাবাড় পশ্চিমপাড়ার খাল ধারের বাসিন্দা। ঘরে বিশেষভাবে সক্ষম স্বামী আর পাঁচবছরের ছোট্টমেয়ে। শাকিলার উপার্জনেই কোনওমতে চলে সংসার। বাড়ি বলতে টালি আর পলিথিনের ছাউনি দেওয়া ১০ ফুট বাই ১৫ ফুট ইটের দেওয়াল দেওয়া ঘর। বাঁশের জানলা দরজা, ঠান্ডা আটকাতে ঘেরা আছে তালপাতা আর পলিথিন দিয়ে। শাকিলা জানান, একটা বাড়ির আবেদন নিয়ে পঞ্চায়েতে হাঁটাহাঁটি করেছেন বহু বছর। কিন্তু লাভ হয়নি কোনও। ঘরের জন্য টাকা পাওয়া তো দূরের কথা, তালিকাতে নামই ওঠেনি।

নতুন নিয়মে এখন আবাস যোজনার তালিকা সমীক্ষার কাজে যেতে হচ্ছে আশাকর্মীদের। তাই রোজ তালিকা নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরছেন শাকিলাও। আর তাতেই মাঝে মাঝে চোখ কপালে উঠছে তাঁর। শাকিলার আক্ষেপ, “অনেকেরই দেখছি ঘরে পাকা ছাদ রয়েছে, ঘরে পাথর বসানো আছে, আবার আবাস প্লাস যোজনায় নামও আছে। সেই সমীক্ষা করতে হচ্ছে। অথচ নিজেরই থাকার মতো ঘর নেই।”
ঘরের কথায় চোখের জল সামলাতে পারেন না শাকিলার স্বামী। ভাঙা ঘরে যে দুঃসহ জীবন। তাঁর কথায়,“পঞ্চায়েতকে ঘরের কথা বলতে গিয়ে শুনতে হয়েছে বউকে চাকরি দিয়েছি, আর কিছু হবে না।”
দু'টি কুকুরছানার কান, লেজ কেটে নুন মাখিয়ে খেয়ে নিল দুই মাতাল! মদের নেশায় নৃশংস কাণ্ড
শাকিলার যেখানে ঘর, ওই এলাকার এক-দেড় কিলোমিটারের মধ্যেই আবাস যোজনা নিয়ে অভাব অভিযোগ শুনতে পরিদর্শন করেছেন হাওড়ার জেলাশাসক মুক্তা আর্য-সহ অন্য আধিকারিকরা। তাঁরা যদি একবার আসতেন, এটাই ভাবছেন দুজনে। সব শুনে বিডিও অবশ্য কিছু করা যায় কিনা দেখবেন বলেছেন। জানালেন শাকিলা। তবে এ ব্যাপারে প্রশাসনের কারও কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।