
শেষ আপডেট: 16 May 2022 03:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ইটও নড়বে না, মাথার ছাদও থাকবে অক্ষত থাকবে, কিন্তু শুধু বাড়িটাই চলে যাবে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে! না এটা পিসি সরকারের কোনও ম্যাজিক নয়, বাস্তবেই এমন ঘটনা ঘটছে। হিলির (Hili) আস্ত এক দোতলা বাড়িকে অক্ষত অবস্থায় অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করল এলাকারই এক ব্যবসায়ী। সেই প্রস্তুতি দেখতে উপচে পড়া ভিড় জমেছে। ভিড়ের একটাই প্রশ্ন, এও সম্ভব?
অলীক কথা মনে হতে পারে আপনার, কিন্তু বালুলঘটের হিলি (Hili) এলাকায় ব্যবসায়ী সুজিত মহন্ত এমনই কাজ শুরু করেছেন। নেটপাড়ায় দেখা এক ভিডিও থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের আস্ত বাড়ি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার ভাবনা মাথায় আসে তাঁর। যেমন ভাবা তেমন কাজ, শুরু হল বাড়ি স্থানান্তরিত করার তোড়জোড়।
কিন্তু কেন? ৫১২ নম্বর জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কারণে নিজের রায়তি সম্পত্তির উপর তৈরি দুই হাজার স্কোয়ার ফিটের দোতালা বাড়ি ভাঙার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। তাঁর বাড়ির আশেপাশে আরও অনেক বাড়ি ছিল। সেইসব বাড়ির মালিকেরা পুরনো বাড়ির মায়া ত্যাগ করে নতুন বাড়ি তৈরি করতে শুরু করলেও সুজিত সেই পথে হাঁটেননি।
ক্ষতিপূরণের ৩০ লক্ষ টাকা হাতে পেতেই বাড়ি সরানোর প্রস্তুতি শুরু করেন সুজিত। এমন কাজ যেইসব কোম্পানি করে নেট ঘেঁটে খুঁজে বার করে তা, যোগাযোগও করেন। সম্প্রতি বিহার থেকে এমনই এক সংস্থার কর্মীরা এসে দেখে গেছেন সুজিতবাবুর বাড়ি। সেই কোম্পানির থেকে আশ্বাস মেলার পরই বাড়ি সরাতে রাজি হয়ে যান তিনি।
বিহারের ওই সংস্থার হাত ধরেই চলছে বাড়ি সরানোর কাজ। প্রতিদিন ১০ জন কর্মী কাজ করছেন। কিন্তু কীভাবে সরানো হচ্ছে আস্ত বাড়িটা? জানা গেছে, প্রথমে বাড়ির নিচের মাটি খুঁড়ে সেখানে জ্যাক বসানো হয়েছে। যেমন কোনও গাড়ি তোলার জন্য ব্যবস্থা করা হয়। প্রতিটি জ্যাক একসঙ্গে তোলা হবে। মাটি থেকে বাড়িটাকে ৩ ফুট ওপর পর্যন্ত তোলা হবে। এরপরে চাকা যুক্ত জ্যাকের সাহায্যে ৬০ ফুট দূরে নিয়ে গিয়ে বাড়িটি মাটিতে বসানো হবে। বাড়ি স্থানান্তরে এক প্রকার চাকা যুক্ত বিশেষ জ্যাক নিয়ে আসা হবে।
এই কর্মযজ্ঞ দেখতে উৎসাহীদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। এমন কাজ এর আগে যে হিলি শহরে ঘটেনি। তাই সকলের মনেই প্রশ্ন কীভাবে এটা সম্ভব হয়। পেশায় ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ব্যবসায়ী সুজিত মহন্ত জানান, " ইন্টারনেটে ভিডিও দেখেই মাথায় এই বুদ্ধি আসে। যখন সড়ক কর্তৃপক্ষ বাড়ি ভাঙার কথা বলে, তখন বাড়ি না ভেঙে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। এতে খরচও অনেক কম।" এক মাস অতিক্রান্ত, আরও এক মাস লাগবে এই বিশাল কাজ শেষ করতে। তারপরই সুজিতবাবুর পুরনো বাড়ির ঠিকানা হবে নতুন জায়গায়।
পরিবারে আর্থিক অনটন, হিন্দু যুবকের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিলেন মুসলিম ভাইয়েরা