
শেষ আপডেট: 19 June 2023 08:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে রাজ্য সরকার যে অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল, সেই অর্ডিন্যান্সকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা হয়েছিল হাইকোর্টে। উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে এবার রাজ্য ও মামলাকারীর বক্তব্য জানতে চাইল উচ্চ আদালত। অর্ডিন্যান্স সংক্রান্ত মামলায় তিন সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে, নির্দেশ দিল হাইকোর্ট। শুধু তাই নয়, মামলাকারীর যদি কোনও বক্তব্য থাকে তবে সেটাও দু'সপ্তাহের মধ্যে জানতে হবে আদালতে।
সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের নির্দেশের পরই উপাচার্য নিয়োগের জন্য গঠিত সার্চ কমিটিতে বদল আনা হয়েছে। ৩ জন নয়, ৫ জন সদস্যের কমিটি গঠন হবে বলে নবান্ন অর্ডিন্যান্স জারি করেছিল। গত ১৫ মে এই অর্ডিন্যান্স দেয় রাজ্য উচ্চশিক্ষা দফতর। নতুন কমিটিতে থাকবেন রাজ্যপালের মনোনীত প্রতিনিধি, উচ্চ শিক্ষা সংসদের মনোনীত প্রতিনিধি, রাজ্যের মনোনীত প্রতিনিধি ও মুখ্যমন্ত্রী মনোনীত প্রতিনিধি। বাদ পড়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্ট বা সেনেটর মনোনীত প্রতিনিধি।
সেই অর্ডিন্যান্স নিয়ে আপত্তি তুলে প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের ডিভিশন বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়। মামলাকারী তথা আইনজীবী সুস্মিতা সাহা দত্তের দাবি, রাজ্যের জারি করা ওই অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী নতুন কমিটিতে রাজ্য সরকারের ৩ প্রতিনিধি থাকার কথা বলা হয়েছে। ফলে রাজ্য কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে তা সহজেই পাশ হয়ে যাবে। এমনকী রাজ্যপালের মতামতের কোনও গুরুত্ব থাকবে না।
সোমবার এই মামলার শুনানিতে আইনজীবী সুস্মিতা দত্ত তাঁর সওয়ালের বলেন, রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য নিয়োগে স্বজন পোষণের কোনও জায়গা নেই। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসির সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী উপাচার্য নিয়োগ করতে হয়। নিয়োগ সংক্রান্ত সার্চ কমিটিতে বেআইনিভাবে রাজ্যের প্রতিনিধি বেশি রাখা হয়েছে।
রাজ্যের তরফে অ্যাডভোকেট জেনারেল সৌমেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় পাল্টা সওয়ালে আদালতে বলেন, যাঁরাই কমিটির সদস্য পদে থাকুন না কেন তাঁরা ইউজিসির অনুমতির ভিতিতেই মনোনীত হন। পাশাপাশি রাজ্যের কোনও বিশ্ববিদ্যালয়েই এখনও এই সংক্রান্ত সার্চ কমিটি তৈরি হয়নি।
এদিন অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল অশোক চক্রবর্তী শুনানিতে জানান, 'উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকাভুক্ত। ফলে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করার ক্ষমতা কেন্দ্রের। কেন্দ্রের প্রতিনিধি রাজ্যপাল বা রাষ্ট্রপতির পরামর্শের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।'
সওয়াল জবাব শেষে এই মামলায় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করল। পাশাপাশি, যদি রাজ্য সরকার সার্চ কমিটি নিয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয় তবে সেটা মামলাকারীকে জানাতে হবে। আগামী ৩১ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।
আইএসএফ কর্মী খুনে আরাবুলের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, নাম ছেলে হাকিমুলেরও