দ্য ওয়াল ব্যুরো: শব্দদূষণের প্রতিবাদ করায় এনআরএস হাসপাতালের এই কর্মী ও তাঁর পরিবারকে চূড়ান্ত হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল নরেন্দ্রপুর এলাকায়। পুলিশের দ্বারস্থ হয়েও সমস্যার সমাধান হয়নি বলে দাবি মিঠুদের। পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয় যে রবিবার মধ্যরাতে পরিবার-সহ বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হন মিঠু। দুই সন্তানকে নিয়ে এনআরএস চত্বরে রাত কাটান অসহায় ভাবে।
মিঠু দাস ও তাঁর পরিবারের অভিযোগ, বিশ্বকর্মা পুজো ও মহালয়া উপলক্ষে ওই দিন তীব্র স্বরে বক্স বাজাচ্ছিলেন স্থানীয় কিছু যুবক। মিঠু দাসের ছেলে অরিন্দম তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ও মেয়ে অমৃতা প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। তাদের অনলাইন ক্লাস করতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল বলে মিঠু বক্সের আওয়াজ কম করতে বলেন।
অভিযোগ, এ কথা শুনেই ওই যুবকেরা মিঠুর উপর চড়াও হয়, তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করে। পরের দিন, ১৮ তারিখে মিঠু ঘটনাটি নরেন্দ্রপুর থানায় গিয়ে জানালে ১৯ তারিখে পুলিশ এসে যুবকদের সাবধান করে দিয়ে যায়।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। এর পরের দিন, অর্থাৎ ২০ তারিখ, রবিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ফের ওই যুবকের দল মিঠুর বাড়িতে চড়াও হয়। এবার তাদের সঙ্গে স্থানীয় কাউন্সিলর রঞ্জিত মণ্ডল। মিঠুর দাবি, আবারও তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং স্বয়ং কাউন্সিলরও মিঠুকে হুমকি দেন! অভিযোগ, তাঁর বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মদ্যপ অবস্থায় গভীর রাত পর্যন্ত বেশ কয়েক জন বাড়ি ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে।
আতঙ্কিত মিঠু ও তাঁর পরিবার বিষয়টি ফের পুলিশকে জানালে, নরেন্দ্রপুর থানা-সহ বারুইপুরের এসপি-- কেউই তাঁদের কোনও রকম নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে পারেননি। ফলে মিঠুর পরিবার মধ্যরাতে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়! এক মাস আগে লোন নিয়ে একটি গাড়ি কিনেছিলেন মিঠু। ওই গাড়িতেই রয়েছেন তাঁরা এখন, এনআরএস-এর পার্কিং লটে।
সারারাত ওভাবে কাটিয়ে আজ, সোমবার সকাল আটটায় ডিউটিতেও গিয়েছেন কোভিডযোদ্ধা মিঠু। কিন্তু তাঁর সন্তান ও পরিবার এখনও গাড়িতেই। এর সমাধান কী, সেদিকেই তাকিয়ে তাঁরা। পুলিশই যেখানে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, স্থানীয় কাউন্সিলর যেখানে প্রকাশ্যে এসে হুমকি দিয়েছেন সেখানে কোথায় মিলবে নিরাপত্তা! এটাই প্রশ্ন তাঁদের।