দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেডিক্যাল কলেজের অনশন মেটার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাস্থ্য দফতরের আমলা বদল করে ফেলল নবান্ন। সরিয়ে দেওয়া হলো রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব অনিল ভার্মাকে। তাঁর জায়গায় নতুন সচিব হলেন রাজীব সিনহা। শুধু স্বাস্থ্যসচিব নয়, সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে স্বাস্থ্য অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যকেও। মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ অশোক ভদ্রকে সরিয়ে তাঁর জায়গায় আনা হচ্ছে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ উচ্ছ্বল ভদ্রকে।
প্রশাসনিক মহলের মতে মেডিক্যাল কাণ্ডে সরকার মুখ বাঁচাতেই খাঁড়া ঝোলাল আমলাদের উপর। বছর দেড়েক আগে খাদ্য দফতরের সচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল অনিল ভার্মাকে। সেই সময় ব্যপক বিতর্ক হয়েছিল সরকারি স্তরে। তারপর আবার তাঁকে স্বাস্থ্যসচিব করা হয় । দায়িত্ব দেওয়া হয় স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারম্যানেরও। প্রশাসনিক মহলে অনিল ভার্মা অত্যন্ত কঠোর এবং করিৎকর্মা আমলা হিসেবেই পরিচিত। সূত্রের খবর, মেডিক্যাল কাণ্ডে তাঁর অবস্থান ছিল কঠোর। তিনি সমস্ত দায় চাপিয়েছিলেন কলেজ কর্তৃপক্ষের উপর। সামান্য হোস্টেল নিয়ে যেখানে এত বড় আন্দোলন হয় সেটাকে তিনি মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষের অকর্মণ্যতা বলেই মনে করেছিলেন। রিপোর্টও দিয়েছিলেন শীর্ষস্তরে। কিন্তু আন্দোলন মিটতেই কোপ পড়ল তাঁর উপর। এক মন্ত্রী বলেন, ''ওঁর সময়ে ১৭৩ জন ডাক্তার চাকরি ছেড়েছেন। কাউকে কাজ করতে দিতেন না। সবার সঙ্গে ঝগড়া করতেন।''
কিন্তু ভিন্ন মতও রয়েছে আমলাস্তরে। নবান্নের এক আমলার কথায়, সরকারি হাসপাতালে নিয়মানুবর্তিতা কায়েম করতে সচেষ্ট হয়েছিলেন অনিল ভার্মা। সরকারি হাসপাতালে সময় না দিয়ে ডাক্তাররা যাতে স্রেফ প্রাইভেট প্র্যাকটিস করে সময় না কাটায় তা সুনিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তাতে ডাক্তারদের একাংশের ক্ষোভ তো হবেই। তা ছাড়া স্বাস্থ্য দফতরের অনেকেরই চক্ষুশূল ছিলেন তিনি। কারণ, সিঙ্গল টেন্ডার ডেকে কাজের বরাত দেওয়ায় ঘোর আপত্তি করেছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, অনিল ভার্মাকে যে স্বাস্থ্য সচিবের পদ থেকে সরানো হতে পারে সে ব্যাপারে গত শনিবারই খবর ছড়িয়েছিল আমলা মহলে। একটি সূত্রের দাবি, তখন ঠিক হয়েছিল পরিবহণ সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে স্বাস্থ্য সচিব করে তাঁর স্থানে পাঠানো হবে অনিল ভার্মাকে। কিন্তু সে দিন তা হয়নি। তা না করে সোমবার আরও কিছু দফতরে সচিব বদল করে এমন ভাবে পদক্ষেপ করা হল যেন সামগ্রিক ভাবে আমলাদের মধ্যে একটা রদবদল হয়েছে।
যেমন, পরিবহন দফতরের সচিব পদ থেকে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরিয়ে পাঠানো হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতরের সচিব করে। স্বাস্থ্য দফতরে অনিল ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন রাজীব সিনহা। অনিল ভার্মাকে পাঠানো হচ্ছে প্রাণী সম্পদ দফতরের সচিব করে। প্রাণী সম্পদ দফতর থেকে নতুন পরিবহন সচিব হয়ে আসছেন বিপি গোপালিকা।
গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সচিব পদ থেকে সুব্রত বিশ্বাসকে সরিয়ে পাঠানো হচ্ছে মাস এডুকেশন এক্সটেনশন এবং লাইব্রেরি সার্ভিস দফতরে। সুব্রত বিশ্বাসের জায়গায় আসছেন শ্রীমতি ছোটেন ধেন্ডুপ লামা। তাঁকে সরানো হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং স্বনিযুক্তি বিভাগ থেকে। মাস এডুকেশন এক্সটেনশন এবং লাইব্রেরি সার্ভিস দফতর থেকে সরিয়ে অনুপ কুমার আগরওয়ালকে সরিয়ে পাঠানো হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠী এবং স্বনিযুক্তি বিভাগে।