দ্য ওয়াল ব্যুরো: নন্দীগ্রামে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর (suvendu adhikary)কাছে। তা নিয়ে অবশ্য মামলা চলছে। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী থাকতে গেলে তাঁকে ছ’মাসের মধ্যে যে কোনও একটি আসন থেকে জিততেই হবে। সেই মতো ভবানীপুর উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (mamata banerjee)। সেই ভোটের প্রথম কর্মীসভা থেকে এদিন মমতা আরও একবার নন্দীগ্রামের ভোট (nandigram election) নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুললেন। সেইসঙ্গে বললেন, তিনি সেখানে ষড়যন্ত্রের বলি হয়েছেন (victim of conspiracy)। সেইসঙ্গে দেহরক্ষীর রহস্যমৃত্যু মামলায় শুভেন্দু অধিকারীর রক্ষাকবচ পাওয়া নিয়েও তাঁর বিরুদ্ধে আক্রমণ শানান মমতা। বলেন, ভগবানের জ্যেষ্ঠপুত্র নাকি যে এফআইআর করা যাবে না।
এদিন নন্দীগ্রামের ভোট নিয়ে মমতা বলেন, “নন্দীগ্রামে লড়তে গিয়েছিলাম, অপরাধ তো করিনি৷ আমার একটা আবেগ ছিল। অনেকে অনুরোধও করেছিলেন৷ বুথ অফিসার, আইসি, পর্যবেক্ষক বদলে দিয়ে খালি ছাপ্পা মারা হয়েছে৷ বাধ্য হয়ে এক জায়গায় গিয়ে বসে থেকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছি৷ এঁদের ষড়যন্ত্রের জন্য ফের নির্বাচনে আবার দাঁড়াতে হল৷ কিন্তু আমি ভবানীপুরে নিজের ঘরে ফিরে আসতে পেরেছি৷ আমি নিশ্চিত, ভবানীপুরের মানুষও চেয়েছিলেন আমি এখানেই থাকি।”
বিচারাধীন বিষয় নিয়ে এই মন্তব্যকে আদালত অবমাননা বলেছে বিজেপি। রাজ্য বিজেপির অন্যতম সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, “যা নিয়ে মাওলা চলছে তাকে এখনই কী ভাবে মুখ্যমন্ত্রী ষড়যন্ত্র বলতে পারেন। এ ব্যাপারে প্রয়োজনে আমরা আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করব।”
তা ছাড়া শুভেন্দুর নাম না করেও এদিন চাঁচাছোলা আক্রমণ শানান মমতা। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে মার্ডার কেসে তথ্য থাকলেও এফআইআর করা যাবে না? কেন এফআইআর করা যাবে না? ভগবানের জ্যেষ্ঠপুত্র? আমাদের লোকেরা হাজিরা দেবে আর তোমাদের লোকেদের ডাকলেই একটা করে অর্ডার নিয়ে আসবে?” দেহরক্ষী শুভব্রত চক্রবর্তীর গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা কাঞ্জিলাল চক্রবর্তীর এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত ভার নিয়েছে সিআইডি। সেই মামলাতেই শুভেন্দুকে ভবানী ভবন তলব করেছিল। কিন্তু সেখানে না গিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। আদালত বলেছে, এখন তো বটেই, ভবিষ্যতেও কোনও মামলাতে শুভন্দুকে গ্রেফতার করা যাবে না।