দ্য ওয়াল ব্যুরো : সম্প্রতি বিজেপির কিষাণ মোর্চার (Kisan Morcha) এক সভায় হাতে ‘লাঠি তুলে নেওয়ার’ ডাক দিয়েছিলেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর। শুক্রবার তিনি জানালেন, ‘শান্তিরক্ষার স্বার্থে’ সেই মন্তব্য প্রত্যাহার করছেন। এদিন পাঁচকুলায় সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষমাপ্রার্থনার সুরে তিনি বলেন, কোনও অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি লাঠি ধরার কথা বলেননি। কেবল আত্মরক্ষার কথা বলতে চেয়েছিলেন।
পরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমার মন্তব্যে কৃষকরা মনে আঘাত পেয়েছেন। তাই আমি মন্তব্য প্রত্যাহার করছি। রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হোক আমি চাই না।” পরে তিনি বলেন, “প্রত্যেকেরই শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার আছে।” এদিন নবরাত্রি উৎসব উপলক্ষে মাতা মনসা দেবীর মন্দিরে পুজো দেন খট্টর। তারপরেই তিনি বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করেন।
কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকরা গত কয়েক মাসে বেশ কয়েকবার বিজেপি ও জেজেপি নেতাদের তাড়া করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে রবিবার কৃষক সমাবেশে খট্টর বলেছিলেন, হরিয়ানার উত্তর ও উত্তর পশ্চিমের জেলাগুলিতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তারা হাতে লাঠি তুলে নেবে। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তাতে শোনা যায়, খট্টর বলছেন, “প্রতিটি জেলায়, বিশেষত উত্তর ও উত্তর পশ্চিমের জেলাগুলিতে ৫০০ থেকে ৭০০ কৃষককে নিয়ে ভলান্টিয়ার গ্রুপ গড়ে তুলতে হবে। তারপরেই হবে শঠে শাঠ্যম সমাচরেৎ। ভলান্টিয়ারদের হাতে লাঠি তুলে নিতে হবে।”
কৃষক জমায়েতে উপস্থিত এক ব্যক্তির প্রশ্নের জবাবে খট্টর বলেন, “আদালতে জামিন পাওয়া নিয়ে আপনাদের ভাবতে হবে না। আপনারা কয়েক মাস জেলে থাকবেন। তারপর বাইরে বেরিয়ে বড় নেতা হয়ে যাবেন। আপনাদের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে।”
বৃহস্পতিবার হরিয়ানার কৃষকরা অভিযোগ করেন, বিজেপির এক সাংসদের গাড়ি তাঁদের ধাক্কা দিয়েছে। কুরুক্ষেত্রের বিজেপি সাংসদ নায়েব সাইনি হরিয়ানার খনিমন্ত্রী মূলচাঁদ শর্মা সহ কয়েকজন বিজেপি নেতা বৃহস্পতিবার নারাইনগড়ের সাইনি ভবনে এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। তাঁদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখানোর জন্য সাইনি ভবনের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন কৃষকরা। অনুষ্ঠানের শেষে ওই ভবন থেকে বিজেপি নেতাদের নিয়ে একটি কনভয় বেরোয়। অভিযোগ, কনভয়ের একটি গাড়ি জনৈক কৃষককে ধাক্কা দিয়েছে। আহত অবস্থায় তাঁকে ভর্তি করা হয়েছে আম্বালার কাছে একটি সরকারি হাসপাতালে। কৃষি আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত কৃষকরা হুমকি দিয়েছেন, ১০ অক্টোবরের মধ্যে ওই গাড়ির চালকের বিরুদ্ধে এফআইআর না করলে তাঁরা থানা ঘেরাও করবেন।