
শেষ আপডেট: 27 September 2023 08:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়াই ছিল 'অপরাধ'। তাই স্ত্রীর পেটে লাথি মেরে গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করার চেষ্টার অভিযোগ উঠল স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে হাড়োয়ার সোনাপুকুর শংকরপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কুচিয়ামোড়া গ্রামে (Haroa Domestic Violence Case)। অভিযুক্ত স্বামীর নাম মারুফ হোসেন। সে একটি মানিব্যাগ কারখানার শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গোপালপুর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের পুকুরিয়া গ্রামের ২২ বছরের তরুণী ছবিনা খাতুনের সঙ্গে মারুফের বিয়ে হয় বছর খানেক আগে। বিয়ের পর ছবিনা জানতে পারেন স্বামীর আগেও বিয়ে হয়েছিল। প্রথম পক্ষের সন্তানও রয়েছে। প্রতিবাদ করেছিলেন ছবিনা। সেই সময় মারুফ স্ত্রী ছবিনাকে শর্ত দেয়, যে কোনওভাবেই অন্তঃসত্ত্বা হওয়া যাবে না। যদিও পরবর্তীতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন ছবিনা। অভিযোগ, বিষয়টি জানার পরেই গর্ভপাতের জন্য ওই তরুণীকে চাপ দিতে থাকে মারুফ ও তাঁর বাবা-মা। তরুণী গর্ভস্থ সন্তান নষ্ট করাতে রাজি না হওয়ায় তাঁর উপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালাতে থাকে সে।
প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছবিনাকে বাঁচাতে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে গিয়েছিলেন মা আমেনা বিবি ও দাদা বদরউদ্দিন গাজি। তাঁদেরও মারধর করে ঘরে আটকে রাখা হয় বলে মেয়ের শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাঁরা। পরে প্রতিবেশীরাই হাড়োয়া থানায় খবর দেন। পুলিশ এসে ছবিনা সহ তাঁর দাদা ও মাকে উদ্ধার করে হাড়োয়া গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালের চিকিৎসক জানিয়েছেন, ওই তরুণী অন্তঃসত্ত্বা। তার পেটে লাথি মারায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাকে পর্যবেক্ষণের রাখা হয়েছে।
নির্যাতিতা তরুণী স্বামী মারুফ হোসেন, শাশুড়ি মাসুদা বিবি ও শ্বশুর শাকার আলি মোল্লার বিরুদ্ধে হাড়োয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ এই অভিযোগের ভিত্তিতে মারুফ হোসেনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
আরও পড়ুন: বেতনের টাকা আটকে রাখা হচ্ছে, পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে জেলাসুপারের কাছে লরিচালক