
শেষ আপডেট: 25 April 2022 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে হাঁসখালিতে (Hanskhali) নাবালিকা ধর্ষণের (Child Rape) ঘটনার তদন্ত করছে সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সূত্রে খবর, প্রাথমিক তদন্তের পর গোয়েন্দারা মনে করছেন, ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় অন্তত তিন জন ধর্ষণ করেছিল ওই নাবালিকাকে। তাই ঘটনাটিকে গণধর্ষণ হিসাবেই দেখছে সিবিআই।
সিবিআই সূত্রে খবর, গোয়েন্দারা তদন্তে জানতে পেরেছেন ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করার আগে তাকে মাদক খাওয়ানো হয়েছিল। এমনকি গাঁজাও খাওয়ানো হয়। তার পর তাঁকে একে একে তিন জন ধর্ষণ করে। নাবালিকাকে এ ভাবে ধর্ষণ করার পর তাকে রাস্তার ধারে ফেলে অভিযুক্তরা চলে যায়। পরে স্থানীয় এক মহিলা তাকে স্কুটিতে তুলে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
হাঁসখালির (Hanskhali) ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত হল স্থানীয় তৃণমূল নেতার ছেলে ব্রজগোপাল ও তার বন্ধু প্রভাকর পোদ্দার। এই দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আগেই হাঁসখালির নাবালিকার পরিবার অভিযোগ করেছিল যে, ব্রজগোপাল গোয়ালার জন্মদিনের পার্টি থেকে বাড়ি ফেরার পর থেকে তাঁদের মেয়ের পেটে অসহ্য ব্যথা শুরু হয়। রক্তপাত হতে শুরু করে। ব্যথা বাড়ায় প্রথমে স্থানীয় এক কোয়াক ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন তার মা। কিন্তু বাড়ি ফিরে তিনি দেখেন মেয়ে আর বেঁচে নেই। এর পর ৫ এপ্রিল ভোর রাতে ওই নাবালিকার সৎকার করা হয়। এ জন্য পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ।
প্রসঙ্গত, হাঁসখালির ঘটনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, মেয়েটি কি সত্যিই রেপ হয়েছিল, নাকি প্রেম সম্পর্ক ছিল, নাকি অন্তঃসত্ত্বা ছিল নাকি কেউ কেউ ঠাস ঠাস করে চড় মেরেছিল। প্রেমের সম্পর্ক তো ছিলই। পাড়ার লোকেরাও তা জানত।
মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে তীব্র সমালোচনা হয়। তার পর পরই হাইকোর্ট হাঁসখালির তদন্তভার সিবিআইকে দেয়। গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্ট এই রায় দেওয়ার পর এতদিনে সিবিআই তদন্ত অনেকটাই এগিয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে, খুব শিগগির আদালতে চার্জশিটও পেশ করা হবে।