দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেউ নাক সিঁটকোন, কেউ বা চুপিচুপি ভরসা করেন। তবে মাদুলি ঠিক কী জিনিস, তা সকলেই জানেন। বাইরে ধাতব মোড়ক আর ভেতরে মন্ত্রপূত জড়িবুটি। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে যুগ যুগ ধরে সেই মাদুলিতে মজেছিল দেশ। আর এখন, বিজ্ঞানের রমরমার যুগে প্রসঙ্গটাই যেন বিরক্তিকর। গুগল করলেই যেখানে নিজের দিনক্ষণ বা বছর কেমন যাবে জেনে নেওয়া যায়, সেখানে মাদুলির মাহাত্ম্য কি আর ধোপে টেকে! এ যুগের কুসংস্কাররাও যে আধুনিক, তাই জনপ্রিয়তা হারিয়ে ক্রমশই বিলুপ্ত হতে বসেছে পুরনো রক্ষাকবচ।
দীর্ঘ লকডাউনের মধ্যে শান্তিপুর এবং নদিয়ার শয়ে শয়ে মাদুলি কারিগর তাঁদের পরিবার নিয়ে পথে বসেছেন। মালিকপক্ষ পাশে দাঁড়ায়নি, পাশে থাকেনি সরকার। অথচ সম্প্রতি নদিয়ার কৃষ্ণনগর সিনার্জিতে কুটির শিল্প মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ সহ আরও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কথা উঠে এসেছিল এই শিল্পের পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গ। কিন্তু কাজে হল কই!
বেথুয়া, হরিণঘাটা, চাকদা, নবদ্বীপ হোক বা শান্তিপুর, মাদুলি শিল্পের কারিগররা বাস্তবটা ভাল বোঝেন না। শিল্পীকার্ড তো দূরে থাক ন্যূনতম কুটির শিল্পের বিভিন্ন মিটিংগুলোতেও ডাক পান না ওঁরা।
দেখুন ভিডিও।
https://youtu.be/j3GxB1jZ8d8
এদিকে মাদুলি তৈরির উপকরণের দাম বেড়েছে। কিন্তু মজুরি বাড়ল কই? হাজারটা মাদুলি তৈরি করে দিতে পারলে মোটে সাড়ে চারশো টাকা পান কারিগররা। যার মধ্যে মজুরি এবং অন্যান্য খরচাই ৩০০ টাকা, তাহলে হাতে থাকে ১৫০!
বিজ্ঞানমনস্ক বিভিন্ন সংস্থা প্রতিবাদ করলেও গ্রামগঞ্জের লক্ষ লক্ষ মানুষ আজও মাদুলির উপর ভরসা করে থাকেন। সে ভরসা ডাক্তারের চেয়েও বেশি, ভগবানে বিশ্বাসের মতো। রোগমুক্তি থেকে শুরু করে মামলা মোকদ্দমা, ধন লাভ থেকে সন্তান লাভ, বিবাহ থেকে চাকুরী, দাম্পত্য কলহ থেকে পারিবারিক জটিলতা সবেতেই আজও গোটা কয়েক মাদুলি ধারণ করে ফেলেই নিশ্চিন্ত হন সাধারণ মানুষ। সেটা কোনও ভাবেই কার্যকর নয়, তবু বিশ্বাসে মিলায় বস্তু মেনেই এই রীতি চলে আসছে।
মাদুলি কারিগররা জানান, বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা নেই তাঁদের। এখনই এই কাজ ছেড়ে দেওয়ার উপায় নেই। তবে নতুন প্রজন্মের আর মাদুলি তৈরির প্রতি আগ্রহ না থাকাটাই স্বাভাবিক। যাঁরা আগে এত পুরুষ ধরে করে এই পেশায় আছেন তাঁরাই শেষ সলতে।
কাজেই সরকারি সাহায্য ছাড়া কোনওমতেই যে টেকানো যাবে না মাদুলিদের। এদিকে বাংলার কুটিরশিল্প পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গেও কী ভাবে যেন এড়িয়ে যাচ্ছে মাদুলির কথা, সে নিয়েই সংশয়ে কারিগররা।