
শেষ আপডেট: 14 September 2022 18:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে প্যারা অলিম্পিকসে (para olympics) অংশ নিয়েছিলেন। শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদ হিসেবে তাঁকে সম্মানিত করেছিল রাজ্য সরকার। যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকারি চাকরির (Job) নিয়োগের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাঁকে। এমন অভিযোগ তুলে হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন বাংলার সাঁতারু (Swimmer) দিবাকর কুণ্ডু (Dibakar Kundu)।
২০১৮ সালে উত্তর দিনাজপুরে পঞ্চায়েত এক্সিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি বের হয়। সেই পদে আবেদন করেন দিবাকরবাবু। কিন্তু সেখানে প্রতিবন্ধী এবং ক্রীড়াবিদ হওয়া সত্ত্বেও নিয়োগের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার না দেওয়া এবং পরীক্ষার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ না করার মতো অসঙ্গতি দেখতে পান তিনি। এরপরেই আদালতে মামলা দায়ের করেন তিনি।
বুধবার বিচারপতি শম্পা সরকারের এজলাসে দিবাকরবাবুর আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী জানান, উক্ত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের শ্রম দফতরের গেজেট নোটিফিকেশন মানা হয়নি। এমনকি প্রাপ্ত নম্বর সহ মেধাতালিকা প্রকাশ করা হয়নি। বারবার আরটিআই করা সত্ত্বেও সর্বনিম্ন নম্বর সমেত নামের তালিকা প্রকাশ করেনি উত্তর দিনাজপুর ডিস্ট্রিক্ট লেভেল সিলেকশন কমিটি, এমনটাই এদিন আদালতে জানান আশিসবাবু। তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিবন্ধী ক্রীড়াবিদ হিসেবে চাকরির পরীক্ষায় ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে তাঁর মক্কেলকে।
এদিন শুনানির পর বিচারপতি শম্পা সরকার উত্তর দিনাজপুরের জেলাশাসককে নির্দেশ দেন, কী কারণে দিবাকরবাবুকে চাকরির পরীক্ষায় বঞ্চিত করা হয়েছে, তার রিপোর্ট আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে জমা দিতে। এর পাশাপাশি মামলাকারীর সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে যদি কোথাও নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও দুর্নীতি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালে ন্যাশনাল প্যারা অলিম্পিকে সাঁতারের বিভাগে অংশগ্রহণ করেছিলেন দিবাকর কুণ্ডু। এই কারণে ২০১৫ সালে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে 'মেরিটোরিয়াস স্পোর্টস পার্সন'-এর শংসাপত্র দেওয়া হয়। এই শংসাপত্র চাকরির পরীক্ষায় কাজে লাগলেও এক্ষেত্রে তাঁকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ তুলেছেন দিবাকর কুণ্ডু।