
টাইম স্ট্যাম্প ফটোগ্রাফ দেখে অবাক মুখ্য বনপাল
শেষ আপডেট: 20 June 2024 18:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাত্র আট মিনিটেই ছোট শিখা থেকে বিধ্বংসী আগুন। আর তাতেই পুড়ে শেষ বাঙালির আবেগের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা হলং বাংলো।
মঙ্গলবার রাতে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের ভিতর ঐতিহ্যবাহী হলং বন বাংলো। সেই ঘটনায় হইচই পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। ঘটনা খতিয়ে দেখতে বৃহস্পতিবার জলদাপাড়ায় আসেন রাজ্যের মুখ্য বনপাল দেবল রায়। সেদিনের ঘটনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে মুখ্য বনপাল বলেন,"আমরা যে টাইম স্ট্যাম্প ফটোগ্রাফ পেলাম তাতে দেখলাম দশটা একের ছবি আর দশটা নয়ের ছবি। এই আট মিনিটের মধ্যে আগুন একটা ছোট্ট শিখা থেকে লেলিহান রূপ নিয়েছে। একবার এমন বিধ্বংসী রূপ নেওয়ার পর দমকল এসেও আর বিশেষ কিছু করতে পারেনি। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে পুরো বাংলো।"
তিনি জানান, শট সার্কিটের ফলেই আগুন লেগেছে, এই ব্যাপারটা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। ফরেন্সিক দল এসে এদিন নমুনা সংগ্ৰহ করেছে। সেই রিপোর্ট পেতে দেরি হবে। এই রিপোর্ট পেলেই আগুন লাগার আসল কারণ আরও স্পষ্ট হবে।
নজরদারির অভাবেই পুড়ে ছাই হয়েছে হলং বাংলো, এমন অভিযোগও মানতে চাননি রাজ্যের মুখ্য বনপাল। তিনি জানান, ২৪ ঘণ্টা বাংলো দেখার জন্য তিনজন কর্মী আছেন। দুজন দিনে থাকেন। রাতে থাকেন একজন। ঘটনাচক্রে ওই সময় দু'জন রেঞ্জ অফিসার সেখানে ছিলেন। তাঁরা অনেক চেষ্টা করেছেন বাংলো বাঁচাতে। কিন্ত পুরোপুরি কাঠের এই বাংলোকে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, "বাংলোর ঘর বন্ধ ছিল। আগুন লেগেছে দেখে রেঞ্জ অফিসারা দরজা ভেঙে ঢোকারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু লাভ হয়নি। এখানে থাকা ফায়ার এক্সটিংগুইশরগুলিও আমরা দেখলাম। কোনওটাই মেয়াদ উত্তীর্ণ নয়। আসলে খুব কম সময়ের মধ্যে আগুন এমন বিধ্বংসী রূপ নেয়। সেটা সামাল দেওয়া যায়নি।"
বাংলোর পুনর্নির্মাণ নিয়ে অবশ্য এখনও অন্ধকারে দেবলবাবু। তাঁর কথায়, "এখন কীভাবে আগুন সেটা দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পরে অন্য বন বাংলোগুলোর নিরাপত্তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেদিকটাতেই আপাতত আমরা মনোযোগ দিচ্ছি।"