
শেষ আপডেট: 12 December 2022 15:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব মেদিনীপুর: টেন্ডার দুর্নীতি মামলায় ( Tender Corruption ) শনিবার গভীর রাতে পূর্ব মেদিনীপুরের সুতাহাটা থানার পুলিশ গ্রেফতার করে হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান শ্যামল আদককে ( Haldia Ex Chairman Arrest )। তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া শ্যামল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। তাঁর বিরুদ্ধে পুরপ্রধান থাকাকালীন ১৮ লক্ষ টাকার টেন্ডার দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ আছে। যদিও কলকাতা হাইকোর্ট ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত শ্যামল আদককে গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছিল। বদলে পুলিশি তদন্তে সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিজেপির অভিযোগ আদালতের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করছিলেন হলদিয়ার এই প্রাক্তন পুরপ্রধান। তবু তাঁকে বেআইনিভাবে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার আদালতে শ্যামল আদকের আইনজীবীরা এই যুক্তিই তুলে ধরেন।
শনিবার গভীর রাতে গ্রেফতার করার পর রবিবার শ্যামল আদককে হলদিয়া মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছিল। বিচারক একদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারপর সোমবার তাঁকে তমলুক জেলা আদালতে তোলা হয়। সেখানে সওয়াল-জবাবের সময় গ্রেফতারি নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এই বিজেপি নেতার আইনজীবী ও সরকার পক্ষের আইনজীবী। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ তুলে ধরে শ্যামল আদকের আইনজীবীরা দাবি করেন, কলকাতার ভবানীপুর থেকে হলদিয়া আনার সময় সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। পালটা সরকারি পক্ষের আইনজীবী জানান, ২৬২ নম্বর কেসে শ্যামল আদককে গ্রেফতার করা যাবে না বলে কলকাতা হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধানকে অন্য একটি কেসে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর ফলে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করা হয়নি।
লালনের মৃত্যু সিবিআই হেফাজতে: এটাই কি শুভেন্দুর ১২ ডিসেম্বর? প্রশ্ন কুণালের
দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে সরকারি পক্ষের আইনজীবী শ্যামল আদকের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের দাবি জানান। যদিও তমলুক জেলা আদালতের বিচারক সেই দাবি খারিজ করে দিয়ে মাত্র ৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
এরপর আদালত থেকে বেরিয়ে পুলিশের গাড়িতে ওঠার সময় শ্যামল আদক বলেন, "সত্যমেব জয়তে, সত্যের জয় হয়েছে!" সত্যের জয় বলতে তিনি ঠিক কী বুঝিয়েছেন তা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে। তবে পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সরকারপক্ষের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের আর্জি খারিজ করে বিচারক মাত্র ৩ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন, একেই 'সত্যের জয়' মনে করেছেন এই বিজেপি নেতা।