দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসসি-এসটি বিল নিয়ে তৃণমূল বিধায়কদের ধর্নার মধ্যেই টুইট করে নিজের অবস্থান জানালেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। টুইট বার্তায় তিনি যে কথা লিখেছেন তার অর্থ হল, এই বিল নিয়ে বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে তাঁর যে চিঠির লেনদেন হয়েছে তা যেন বিধানসভাকে জানান অধ্যক্ষ। তবে রাজ্যপালের এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
পরিষদীয় মন্ত্রী তথা শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এর পরেই প্রশ্ন তোলেন, দুই ব্যক্তির মধ্যে আদানপ্রদান করা চিঠি কেন জনসমক্ষে আসবে? তিনি অভিযোগ করেন, পদ্ধতি বিলম্বিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের উপ-মুখ্যসচেতক সমীর চক্রবর্তী জানান, ব্যক্তিগত পরিসরে বিধানসভার অধ্যক্ষের সঙ্গে রাজ্যপালের কী কথোপকথন হয়েছে, সে কথা বিধানসভায় জানানোর কথা নয়। তিনি বলেন, “বিধানসভার নিজস্ব কর্মসূচি রয়েছে। রাজ্যপালের সঙ্গে অধ্যক্ষের কী কথা হয়েছে বিধানসভার সদস্যরা তা জানতে চান না।”
এই বিলটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্য সরকার ও রাজভবনের সংঘাত চলছে। বিলটি রাজ্যপাল আটকে রাখায় আজই বিধানসভায় ধর্নায় বসে তৃণমূল কংগ্রেস। তার পরেই এই টুইট রাজ্যপালের।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1204328959812390913
টুইট প্রসঙ্গে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, “রাজ্যপাল একটি চিঠি দেবেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে, কিন্তু তিনি চিঠিটি পাওয়ার আগেই তা সংবাদমাধ্যমের কাছে পৌঁছে যাবে, সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে – এটা আমি ভাবতেই পারি না। তা হলে গোপনীয়তার জায়গা কোথায়?” রাজ্যপাল বিল আটকে রাখায় বিধায়করা বিরক্ত বলেও জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর, বিলের অংশ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল কংগ্রেস ও সিপিএম। তৃণমূল তখন জানিয়েছিল, রাজ্যপাল বিরোধীদের কথাই শুনছেন, সরকারের কথা তিনি শুনতেই চাইছেন না। সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে রাজ্যপালও তখন জানিয়ে দেন, তিনি শুধুমাত্র সরকারের বক্তব্যে মোহর লাগানোর জন্য নেই। নাম না করে তাঁর বিরুদ্ধে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর অভিযোগও তুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনটি বিল রাজভবন অনুমোদন দেয়নি বলে ৩ ডিসেম্বর অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে দেন, ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত থাকবে। বিধানসভার অধিবেশনেই অধ্যক্ষ জানিয়ে দেন, সরকারের তরফে তিনটি বিল রাজ্যপালের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু একটিতেও অনুমোদন দেয়নি রাজভবন। ফাইলগুলি সেখানেই পড়ে রয়েছে।

এর সওয়া ঘণ্টার মধ্যেই রাজভবনের তরফে পাল্টা বিবৃতি জারি করা হয়েছিল। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, রাজভবন কোনও বিল আটকে রাখেনি। বিলগুলি যাতে দ্রুততার সঙ্গে অনুমোদন দেওয়া যায় তার জন্য অগ্রাধিকার দিয়েই কাজ করা হয়েছে। কিন্তু যে দফতরের বিল, সংশ্লিষ্ট দফতরের থেকে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য চাওয়া হয়েছিল। তারা সেই তথ্য দিতে দেরি করাতেই এই বিলম্ব বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জানা গিয়েছে, এসটি-এসসি কমিশন ও শিক্ষা সংক্রান্ত তিনটি বিল অনুমোদনের জন্য রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল।
এ দিন রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে বিধানসভায় বিধি পেশ করেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, সংঘাতের পথ থেকে সরছে না রাজ্য।
৬ ডিসেম্বর কিছুটা নমনীয় হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বার্তা দিয়েছিলেন রাজ্যপাল। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেছিলেন, “নবান্ন, রাজভবন, মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন কিংবা মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক করে দেওয়া যে কোনও নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে বৈঠক করতে আমি প্রস্তুত। কারণ সংবিধানে আলোচনাই সমাধানের একমাত্র পথ।” কিন্তু এখনও সংঘাত মেটার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।