শেষ আপডেট: 26 October 2020 12:24
বেলরুই গ্রামের পুরোনো বনেদি পরিবার হিসাবে চিহ্নিত রায় পরিবারের সদস্যসংখ্যা নয় নয় করে কম নয়। এ প্রজন্মের অনেকেই বিবাহ বা কর্মসূত্রে বিদেশে থাকেন। কিন্তু যেখানেই থাকুন না কেন দুর্গাপূজার এই চারদিন মায়ের পুজোকে উপলক্ষ্য করে তাঁরা ফিরে আসেন গ্রামের বাড়িতে।
এই অঞ্চলের জমিদার হিসাবে একসময় রীতিমতো ডাকহাঁক ছিল এই রায় পরিবারের৷ সেইসময় থেকেই রায়-বাড়ির দুর্গাপূজা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন প্রচুর মানুষ। সেই প্রাচীন আমল থেকেই এ বাড়িতে দশমীর দিন দুর্গাপূজার ঘট বিসর্জন হবার পর মাকে বিদায় জানানো হয় গান স্যালুট বা বন্দুক ফাটিয়ে। এই বন্দুক ফাটানো দেখতে এখনও ভিড় জমান বেলরুই গ্রামের মানুষজন।
এ বছর করোনা আবহে এ রাজ্যে পুজোর নিয়মকানুনে নানা বদল এলেও কোনও ছেদ পড়ে নি রায়বাড়ির তিনশো বছরের চিরাচরিত প্রথায়। সেই নিয়ম মেনে সোমবার দশমী পুজোর পর ঘট বিসর্জন হলে রায় পরিবারের পুরুষ মহিলারা বন্দুক ফাটিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান।
রায় পরিবারের বর্তমান সদস্য বাচ্চু রায় এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের জানান প্রায় তিনশো বছর ধরে ঘট বিসর্জন হবার পর পরিবারের সদস্যরা এইভাবেই বন্দুক ফাটিয়ে মাকে বিদায় জানিয়ে আসছেন। এ প্রথায় ছেদ পড়েনি আজ পর্যন্ত। প্রথাগত কারণ ছাড়াও, রায় পরিবারের পুরুষ এবং মহিলাদের আত্মরক্ষার্থেও বন্দুক চালাবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।