দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার একটি মসজিদে তাবলিগ-ই- জামাতে অংশ নেওয়াদের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১৩৪ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। ওই অনুষ্ঠানে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন তাঁদের অনেকে ছড়িয়ে পড়েছেন বিভিন্ন রাজ্যে। তার মধ্যে বাংলারও ৭৩ জন রয়েছে বলে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে রাজ্যকে জানানো হয়েছিল। বুধবার সে ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, "নিজামুদ্দিন নিয়ে প্যানিক করার দরকার নেই। জাতের নামে বজ্জাতি করার দরকার নেই।"
এদিন নবান্নের সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "৫৪ .জনকে চিহ্নিত করে ইতিমধ্যেই হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে বলা হয়েছে। তাঁরাও আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছেন।" মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান ৫৪ জনের মধ্যে অনেকে আছেন বিদেশি। হয় তাঁরা মায়ানমার নয় তাঁরা তাইল্যান্ডের নাগরিক। তাঁর কথায়, "আমরা খবর পেয়েছি দক্ষিণ দিনাজপুরের দু'জন, বাঁকুড়ার একজন এবং দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার মগরাহাটের দু'জন নিজামুদ্দিনে গেছিলেন। আমরা খোঁজ নিচ্ছি। আশা করব তাঁরা নিজেরাই পুলিশকে জানাবেন।"
সরকারি সূত্রে খবর, কলকাতার হজ হাউজে অনেককেই কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। তাঁদের দেখভালের ব্যবস্থাও সরকার করছে।
মঙ্গলবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রত্যেককে চিহ্নিত করে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সকলের কোভিড-১৯ পরীক্ষা হবে বলেও জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রসচিব।
নিজামুদ্দিনের ঘটনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারও সতর্ক ছিল না বলে অভিযোগ করেন মমতা। তাঁর কথায়, "১৩ মার্চ যেদিন ওখানে অনুষ্ঠান চলছে সেদিন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব রাজ্যের মুখ্যসচিবকে চিঠি লিখেছিলেন। তাতে বলা ছিল ভারতে এখনও কোভিড-১৯ মহামারীর আকার নেয়নি।" মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্র সতর্ক থাকলে রাজ্যগুলিও সতর্ক থাকতে পারত!"
বুধবার কেন্দ্রের পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়, ওই অনুষ্ঠানে যাঁরা গিয়েছিলেন তাঁদের চিহ্নিত করুক সব রাজ্য সরকার। অবিলম্বে তাঁদের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হোক। পজিটিভ হলে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে দ্রুত। কেন্দ্রের আশঙ্কা, নইলে করোনা সংক্রমণ দ্বিতীয় স্তর থেকে এক ধাক্কায় তৃতীয় স্তর অর্থাৎ গোষ্ঠী সংক্রমণ তথা কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের পর্যায়ে চলে যেতে পারে।
দিল্লির মসজিদের অনুষ্ঠানে যাঁরা অংশ নিয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে ৬ জনের করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়েছে। এঁরা সবাই তেলেঙ্গানার বাসিন্দা। এর আগে এই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরে করোনা আক্রান্ত হয়ে তামিলনাড়ু ও জম্মু-কাশ্মীরে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, মার্চের ১ থেকে ১৫ তারিখ পর্যন্ত এই অনুষ্ঠানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব ও কিরঘিজস্তান থেকে প্রতিনিধিরা এসেছিলেন। দু’হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল। এই মসজিদে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে থেকে পরে ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিলেন। তাঁদের পরীক্ষা হয় হায়দরাবাদে।
আক্রান্তদের সংস্পর্শে যাঁরা এসেছিলেন তাঁদের সকলকেই দিল্লির ওই ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকা সিল করে দেওয়া হয়েছে। নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। মানুষের গতিবিধি খতিয়ে দেখতে ড্রোনও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। এখনও ওই মসজিদের ছ’তলার ডরমিটরিতে আনুমানিক দু’হাজার জন রয়েছেন বলে খবর। এদের মধ্যে আবার ২৮০ জন বিদেশি নাগরিক।
এখনও পর্যন্ত ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরে তামিলনাড়ুতে ৫০ জন, দিল্লিতে ২৪ জন, তেলেঙ্গানায় ২১ জন, অন্ধ্রপ্রদেশে ২১জন, আন্দামানে ১০ জন, অসম এবং জম্মু ও কাশ্মীরে একজন করে মানুষের শরীরে করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। সেখানে থেকে মোট ৮২২ জন বিদেশি বিভিন্ন রাজ্যেও ঘুরে বেড়িয়েছিলেন। এবার তাঁদের বিবরণও বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ প্রধানদের জানানো হয়েছে বলে খবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক সূত্রে।