শেষ আপডেট: 6 February 2020 15:38
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, তৃণমূল তথা সরকারের শীর্ষ নেতারা এমন আশঙ্কা আগে থেকেই করছিলেন। তাই রাজ্যপালকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে চলার চেষ্টা করা হয়েছিল। দফায় দফায় রাজভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র, পরিষদীয় মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও মুখ্য সচিব রাজীব সিনহা। এমনকি রাজ্যপাল জেলা সফরে গেলে যে সরকার হেলিকপ্টার পর্যন্ত দিতে আগে কখনও রাজি ছিল না, তারা হঠাৎই সেই ব্যবস্থাও করে দেন। বৃহস্পতিবার সরকারি হেলিকপ্টারে চড়েই শান্তিনিকেতনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল।
তবে এদিন শান্তিনিকেতনে পৌঁছেই রাজ্যপাল বুঝিয়ে দেন, হেলিকপ্টার দেওয়া হয়েছে মানে তিনি আপস করে চলবেন এমনটা ভাবা ভুল। তাঁর কথায়, হেলিকপ্টার তো আগে দিতই না। আজ হেলিকপ্টার দিয়েছে বলে সকাল ৮ টায় বেরিয়েছি। না দিলেও ক্ষতি ছিল না, ভোর চারটেয় বেরোতাম।
পরে সন্ধ্যায় রাজভবনের তরফে একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়। তাতে পরিষ্কার জানানো হয় যে বক্তৃতার বয়ান পরিবর্তন করার ব্যাপারে রাজ্যপালের পরামর্শ সরকার মানতে চায়নি। রাজ্যপাল তাতে এও বলেন, আমি লক্ষণরেখা অতিক্রম করব না। সাংবিধানিক শর্ত মেনেই চলব। তবে একই সঙ্গে এও ঠিক যে রাজ্যের কোনও আমলা যদি মনে করেন তিনি ইচ্ছামতো সংবিধানের শর্ত লঙ্ঘন করতে পারেন, তাও বরদাস্ত করব না।
রাজ্যপালের এ কথার মধ্যেই রহস্য ও কৌতূহল লুকিয়ে রয়েছে। ‘কাল ইতিহাস হবে’ এবং খামখেয়ালিপনা বরদাস্ত করব না বলে রাজ্যপাল কীসের ইঙ্গিত দিতে চেয়েছেন অনেকেই তা আন্দাজ করার চেষ্টা করছেন।
প্রশ্ন হল, কী করতে পারেন রাজ্যপাল?
ইতিমধ্যে একই ধরনের ঘটনায় কেরলের রাজ্যপাল আরিফ মহম্মদ খান নজির তৈরি করেছেন। সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতা পাঠ করার পরে বলেছেন, এগুলোর কোনওটাই আমার কথা নয়। পড়তে হবে বলে পড়েছি। ধনকড় কি তাই করবেন, বিধানসভার মধ্যে দাঁড়িয়েই এমন কথা বলে দেবেন, নাকি কোনও ডিসেন্ট নোট পেশ করবেন সভায়—সবটাই এখনও রহস্য।
তবে এরকম যদি কিছু কাল বিধানসভায় হয়, তবে সত্যিই শুক্রবার ইতিহাস হতে পারে। রাজ্য বিধানসভায় এমন ঘটনার নজির এখনও পর্যন্ত নেই।