দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত সপ্তাহেই রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, কেন্দ্রের পাঠানো ডাল রাজ্যের হাতে এসে পৌঁছয়নি। বুধবার রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় চাল-ডালের পরিমাণ উল্লেখ করে জানালেন, তা পৌঁছে গিয়েছে। চাল পাঠিয়েছে এফসিআই আর ডাল পাঠিয়েছে নাফেড (একটি সমবায় সংস্থা)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে উদ্দেশ করে টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, এবার সরকারি গণবন্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই খাদ্যসামগ্রী যাতে গরিব মানুষের হাতে পৌঁছয় তা নিশ্চিত করুন।
এদিন রাজ্যপাল জানিয়েছেন, মে মাসের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের পাঠানো ৫ লক্ষ ৭০ হাজার ২৭৭ মেট্রিক টন চাল এবং ১৪ হাজার ৫২৯ মেট্রিক টন মুগডাল এসে গেছে। রাজ্য সরকারের উদ্দেশে রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান আরও লেখেন, জুন মাসে কী ধরনের ডাল রাজ্যের চাই তা এখনই ন্যাফেডকে জানিয়ে দিতে হবে। সেই মতো তারা জুন মাসের সামগ্রী পাঠাবে।
গত সপ্তাহে রাজ্যপালকে উদ্দেশ করে আক্রমণ শানিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। তিনি বলেছিলেন, রাজ্যপাল কোনও তথ্য না জেনেই আবোলতাবোল কথা বলছেন। তবে এদিনের টুইটে খাদ্যমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করেননি ধনকড়। তিনি বলেছেন মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে। কারণ তিনিই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।
প্রশ্ন উঠতে পারে রাজ্যপাল কেন টুইট করে চাল, ডালের হিসাব দিচ্ছেন?
রাজ্য সরকারের এক অবসরপ্রাপ্ত আমলার কথায়, আসলে কেন্দ্র থেকে কিছু পেলে কোনও রাজ্যই সে কথা জানায় না। না পেলে তখন বঞ্চনার কথা বলে। রাজ্য যতক্ষণ ডাল পায়নি, ততক্ষণ বলছিল। ডাল পাওয়ার চুপ করে রয়েছে। হতে পারে রাজ্যপালের মনে হয়েছে, এই ডাল রাজ্য দিচ্ছে বলে প্রচার করতে পারে শাসক দল। তাই তিনি ঢাক পিটিয়ে সবাইকে জানাচ্ছেন।
ওই প্রাক্তন আমলা বলেন, এরকম নজির আগেও দেখা গেছে। একশ দিনের কাজ প্রকল্প খাতে টাকা না পেলে পঞ্চায়েত মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে সে কথা অসন্তোষের সঙ্গে জানাতেন। কিন্তু যখন এক লপ্তে হাজার বা দেড় হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র দিত, তখন টুঁ শব্দও রাজ্য করত না।
বস্তুত রেশন নিয়ে বিস্তর রাজনৈতিক চাপানউতোর হয়েছে বাংলায়। রাজ্যপাল একসময় টুইট করে লেখেন, রাজ্যে গণবন্টন ব্যবস্থায় বড়সড় দুর্নীতি হচ্ছে। তা যদি আটকানো না যায় তাহলে অতীতের সমস্ত দুর্নীতিকে ছাপিয়ে যাবে।
শুধু তাই নয়। প্রধানমন্ত্রী গরিবকল্যাণ অন্ন যোজনার চাল নিয়েও রাজভবন-নবান্ন সংঘাত হয়েছে। তারপর রাজ্যপাল জানান, তিনি মুখ্যমন্ত্রীকে বুঝিয়ে এফসিআই গুদাম থেকে কেন্দ্রের চাল তোলার ব্যাপারে রাজি করিয়েছেন। বিজেপি অভিযোগ করে, মহামারীর সময়ে গরিব মানুষের মুখের খাবার নিয়েও রাজনীতি করছে তৃণমূল কংগ্রেস সরকার। এর থেকে লজ্জার আর কিচ্ছু হতে পারে না।
রেশন ব্যবস্থা নিয়ে যে গোলমাল হয়েছে তা মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকারও। খাদ্যসচিব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় মনোজ আগরওয়ালকে। সেই সঙ্গে কয়েকশো রেশন ডিলারকে শোকজ করে খাদ্য ভবন। বেশ কিছু রেশন ডিলারকে সাসপেন্ড ও জরিমানাও করা হয়। সেই তথ্য সাংবাদিক বৈঠকেই দেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব। তা ছাড়া সম্প্রতি দলের জেলা সভাপতিদের দিদি বলেছেন, রেশন দেওয়া দলের কাজ নয়। ত্রাণ দিতে হলে নিজেরা খরচ করে দিন।