দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসসি-এসটি বিল নিয়ে তাঁর আপত্তি কোথায়, সাংবাদিক বৈঠক করে সে কথা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। তিনি জানান, যে কথা ইতিমধ্যেই সংবিধানে বলা আছে, সেটা নিয়ে রাজ্য সরকার কেন আইন করতে চায়, সে কথা তিনি জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রশ্নের সদুত্তর আজও তিনি পাননি।
সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যপাল বলেন, “আমি দ্রুত উত্তর চেয়ে পাঠাই কারণ বিষয়টি বিধানসভা সংক্রান্ত এবং এটি জরুরি।” তাঁর অভিযোগ, ৫ ডিসেম্বর তিনি এ কথা জানিয়েছিলেন কিন্তু তারপর থেকে আজও পর্যন্ত এ নিয়ে রাজ্য সরকারের তরফে তিনি কোনও উত্তর পাননি। রাজ্যপাল বলেন, “বিল আমার কাছে রয়েছে রয়েছে ঠিকই, কিন্তু বিল তো আর কথা বলতে পারে না। আমি তাই বিলের ব্যাপারে সরকারের কাছে জানতে চেয়েছি।”
রাজ্যপাল দাবি করেন, এই বিলটি কেন এবং কিসের ভিত্তিতে সে কথা তিনি জানতে চেয়েছেন, কিন্তু তা নিয়ে আজও পর্যন্ত সরকার স্পষ্ট ভাবে কিছু বলেনি। নিজের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে রাজ্যপাল বলেন, “আমি সংবিধান দ্বারা বিধিবদ্ধ,” রাজনীতি করার জন্য তিনি নন। যদিও আগেই তাঁর নাম না করে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্যে সমান্তরাল প্রশাসন চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

রাজ্যপালের কাছে বিল আটকে রয়েছে বলে ৪ ও ৫ ডিসেম্বর বিধানসভার অধিবেশন স্থগিত রেখেছিলেন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ সকালেই এসসি-এসটি বিল নিয়ে বিধানসভায় ধর্নায় বসে শাসকদল। তারপরে টুইট করেন রাজ্যপাল। টুইটে তিনি বলেন, যেন তাঁর ও অধ্যক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে লেখা চিঠি বিধানসভায় জানান অধ্যক্ষ। অভিযোগ, রাজ্যপাল টুইট করে এ কথা জনসাধারণকে জানানোর অনেক পরে সেই চিঠি পান বিধানসভার অধ্যক্ষ। যদিও টুইটে রাজ্যপাল উল্লেখ করেছিলেন যে, চিঠিটি তিনি ইমেল করে দিয়েছেন।
ধনকড় পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর সঙ্গে সরকারের সংঘাত শুরু হয়। সেই সংঘাত ক্রমেই চরমে উঠছে। রাজ্যপাল সাংবাদিক বৈঠক করার আগেই, তাঁকে অপসারণের দাবিতে রাজ্যসভার কক্ষ ত্যাগ করেন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়করা। এতে স্পষ্ট যে তৃণমূল কংগ্রেস কোনও ভাবেই আর সমঝোতার রাস্তায় হাঁটতে রাজি নয়।
রাজ্যপাল অবশ্য কয়েকদিন আগেই কিছুটা নমনীয় হয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে আলোচনার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার যে আর রাজ্যপালের সঙ্গে সমঝোতার রাস্তায় রাজি নয় তা দু’টি পদক্ষেপেই স্পষ্ট করে দিয়েছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজ্যপালের ক্ষমতা খর্ব করতে বিধি পেশ করেছে এবং তাঁর অপসারণের দাবিতে সরব হয়েছে দিল্লিতে।