দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় মানসিকভাবে অসুস্থ বলে তীব্র সমালোচনা করলেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা বরাহনগরের বিধায়ক তাপস রায়। শনিবার ভাটপাড়া পুরসভার ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের সভা ছিল। সেখানেই বিধানসভার উপ মুখ্যসচেতক বলেন, "সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ তিনি নন। মেন্টালি অসুস্থ। এমন একটা লোককে বাংলার সাংবিধানিক প্রধান করে পাঠানো হয়েছে।"
এখানেই থামেননি তাপসবাবু। তিনি বলেছেন, "ওঁকে (পড়ুন রাজ্যপালকে) নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ যা বলছেন, উনি তাই করছেন। যেখানে সেখানে ঢুকে পড়ছেন।"
লোকসভা ভোটের সময় থেকেই উত্তপ্ত ভাটপাড়া সহ ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের একাধিক জনপদ। এদিন সেই অশান্তির দায় কৌশলে বিজেপির ঘাড়েই চাপান মন্ত্রী। তাঁর কথায়, "গত সাড়ে আট বছরের মধ্যে আট বছরে বাংলায় মৃত্যু, রক্তপাত, বোমাবাজি হতে দেননি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।" পর্যবেক্ষকদের মতে তাপসবাবু পরোক্ষে বলতে চেয়েছেন, লোকসভায় কিছু আসন জিতেই বাংলায় অশান্তির আগুন জ্বালাচ্ছে।
রাজ্যপাল-সরকার সংঘাতে এর আগে ফিরহাদ হাকিম, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো মন্ত্রীরা সাংবিধানিক প্রধানের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। তবে এতটা ব্যক্তিগত আক্রমণ করেননি। এমনিতে তাপস রায় আলটপকা কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন এমন খুব একটা দেখা যায় না। তাই এদিনে তাপসবাবুর বক্তৃতা শুনে দলের অনেকেও অবাকই হয়েছেন।

যদিও শনিবার রাত পর্যন্ত এ ব্যাপারে রাজভবনের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে বিজেপি ইতিমধ্যেই এ নিয়ে সুর চড়াতে শুরু করেছে। রাজ্য বিজেপির এক মুখপাত্র বলেন, "আসলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন বাংলার রাজ্যপাল হবেন তাঁর হাতের পুতুল। তিনি যেমন ইশারা করবেন, তেমনভাবে চললে সমস্যা ছিল না। যেহেতু রাজ্যপাল সরকারের ভুল ধরছেন, তাই তৃণমূলের এত গাত্রদাহ।" তিনি আরও বলেন, "তাপসবাবু বলেছেন আট বছরে বাংলায় নাকি বোমাবাজি, রক্তপাত, মৃত্যু হয়নি। এর থেকে বড় মিথ্যে আর কী হতে পারে। তৃণমূল নিজেদের মধ্যে কত বোমাবাজি করেছে সেটা দেখলেই পরিষ্কার বাংলায় কী চলছে। বিরোধীদের উপর আক্রমণ তো দূরের কথা!"
সম্প্রতি বিধানসভার গেটে রাজ্যপালের দাঁড়িয়ে থাকা নিয়ে তোলপাড় হয়েছে রাজ্য রাজনীতি। অনেকেই বলেছিলেন, এমন ঘটনা বাংলায় কেন সারা দেশেই নজিরবিহীন। চলমান সেই সংঘাতে তাপস রায়ের মন্তব্য নিয়ে ধনকড় পাল্টা কী বলেন সেদিকেই চোখ রাজনৈতিক মহলের।