শেষ আপডেট: 21 January 2020 08:16
শৈশব থেকে হারিয়ে গেছে আচিং বাচিং খেলা[/caption]
লাট্টু একেবারে জাতীয় স্তর পর্যন্ত খেলা হয় মালয়েশিয়ায়। সে দেশের লোক এই লাট্টুকে বলে গাসিং পেঙ্কাহ বা শুধুই গাসিং। খেলাটা হারিয়েই যাচ্ছিল। সেই দেশের সরকার ঠিক করে পুরনো খেলাধুলোর ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখবে। তাই একেবারে প্রাথমিক স্কুল থেকে শুরু হয়েছিল তালিম দেওয়া।
পশ্চিমবঙ্গেও সম্প্রতি এমন উদ্যোগ দেখা গেল বীরভূমে। যে রাজ্যের মাঠে মাঠে একসময় ব্রতচারী হত, সেখানে ফিরে আসতে চলেছে কিতকিত, পিট্টু, লাফদড়ি, ঘুটিং, কানামাছি প্রভৃতি খেলা। মোবাইলফোন গেমস, ভিডিও গেমস আর কার্টুনের প্রভাবে খেলাধুলো করার সময়ই পায় না শিশুরা। যেটুকু সময় পায় সেটুকু কেড়ে নেয় ঘেরা জায়গায় ফুটবল-ক্রিকেট-সাঁতারের প্রশিক্ষণ। হারিয়ে যায় শৈশব।
গ্রামবাংলার যে সব খেলা হারিয়ে গেছে বা যাচ্ছে সেই খেলা ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগী হয়েছে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ। ঠিক হয়েছে সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার অন্য সমস্ত বিষয়ের সঙ্গে প্রতিদিন খেলার ঘণ্টা থাকবে একেবারে বাধ্যতামূলক ভাবে। নির্দিষ্ট সেই ঘণ্টায় ফিরিয়ে আনা হবে শৈশবের হারিয়ে যাওয়া খেলা।
[caption id="attachment_179451" align="aligncenter" width="600"]
কিতকিত ছিল মূলত মেয়েদের খেলা যদিও ব্রাত্য ছিল না ছেলেরাও[/caption]
বাংলার বিভিন্ন প্রচলিত, ঐতিহ্যবাহী (যাকে ইংরেজিতে বলে ট্র্যাডিশনাল) খেলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঠন পাঠনের সঙ্গে। রাজ্যের মধ্যে প্রথম জেলা হিসেবে ওই কর্মসূচি শুরু হয়েছে বীরভূমে। সোমবার সিউড়িতে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক, বিশ্বভারতীর অধ্যাপক সমীরণ মণ্ডল প্রমুখ।
সিউড়ির প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে জেলার বত্রিশটি সার্কেলের সব স্কুল থেকে তিন জন করে শিক্ষক এবং দু’জন করে শিক্ষিকাকে সোমবার থেকেই এই বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ শিবির তিন দিনের। প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য বলেন, “বাংলার ট্র্যাডিশনাল খেলা ফিরিয়ে আনতে বীরভূম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদ উদ্যোগী হয়েছে। বাংলার সমস্ত প্রাথমিক স্কুলে পড়াশোনার পাশাপাশি এইসব খেলা নিয়মিত ভাবে হবে। এগুলিকে আবশ্যিক করা হচ্ছে। আমরা মনে করি, এর ফলে পড়ুয়াদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটবে এবং সুস্থ সমাজ তৈরি হবে।”