
শেষ আপডেট: 29 March 2022 14:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভক্তের শ্রাদ্ধ করতে মর্ত্যে আসেন স্বয়ং ভগবান! হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও এমনটাই সত্যি। অন্তত ভক্তরা তো সেটাই মনে করেন। প্রতি বছরই নির্দিষ্ট তিথি মেনে এই রীতিই মেনে চলা হচ্ছে পূর্ব বর্ধমানের অগ্রদ্বীপের (Agradwip) গোপীনাথ মেলায় (Gopinath Fair)।
চৈত্র একাদশী তিথিতে কাটোয়ার অগ্রদ্বীপে গোপীনাথ পুজো উপলক্ষে বসে বিরাট মেলা। করোনা আতঙ্কে গত দু'বছর মেলা বন্ধ থাকলেও পুজোর রীতিনীতিতে কোনও ছেদ পড়েনি। এবছর করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে আবার শুরু হয়েছে অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মেলা। দু'বছর পর মেলা শুরু হওয়ায় সেখানে ভিড়ও জমিয়েছেন দ্বিগুণ ভক্ত।
আরও পড়ুন: আগামী ৫ বছরে দেড়শোরও বেশি দেশ সাইকেলে ঘুরবেন পুরুলিয়ার অক্ষয়
কিন্তু, ভক্তের শ্রাদ্ধের কাজ ভগবান কিভাবে করেন? সেই ইতিহাস জানতে হলে পিছিয়ে যেতে হবে ৫০০ বছরেরও বেশি সময় আগে। অগ্রদ্বীপ তখন গণ্ডগ্রাম। পাশ দিয়ে বয়ে চলা ভাগীরথী বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ স্রোতস্বিনী। সেই নদীতেই ভেসে আসা একটি পাথর দিয়ে গোপীনাথের বিগ্রহ তৈরি করেন এক ভাস্কর। অগ্রদ্বীপের গোপীনাথ মন্দিরে সেই বিগ্রহ স্থাপন করেন স্বয়ং মহাপ্রভু শ্রী চৈতন্যদেব (Shri Chaitanya Mahaprabhu)। এরপর তাঁর পার্ষদ গোবিন্দ ঘোষকে সেই গোপীনাথের ভজন-পূজনের দায়িত্ব দেন তিনি।
জীবদ্দশায় গোবিন্দ ঘোষ সেই গোপীনাথকে ভগবান নয়, বরং পুত্র হিসেবেই স্নেহ করতেন। ১৫৮১ খ্রিস্টাব্দে স্ত্রী-পুত্রহীন গোবিন্দ ঘোষের মৃত্য হলে সেই পূর্ব প্রতিশ্রুতি মত স্বয়ং ভগবান এসেই তাঁর শ্রাদ্ধের কাজ সম্পন্ন করেন। এত বছরের পুরনো সেই লোককথাই শোনালেন স্থানীয় বাসিন্দা তথা অগ্রদ্বীপ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান নিতাই চন্দ্র মুখোপাধ্যায়।
সেই থেকে বিগ্রহকে নিয়ে এসে তাঁর মানব পিতা গোবিন্দ ঘোষের পিন্ডদানের অনুষ্ঠান হয় প্রতিবছর। দোল পূর্নিমার পরের কৃষ্ণা একাদশী তিথিতে হয় চিঁড়ে মহোৎসব। এলাকার বাসিন্দারা অরন্ধন পালন করেন। পরের দিন হয় অন্ন মহোৎসব এবং সবশেষে বারুনীর মধ্যে দিয়ে মেলা শেষ হয়।
এই ক'দিন ৭০টি আখড়ায় সারাদিন রাত চলে হরিনাম সংকীর্তন, বাউল ও দেহতত্ত্বের গান। গোপীনাথের মেলা উপলক্ষে লক্ষ লক্ষ দর্শনার্থীর সমাগম হয় সেখানে। করোনা আতঙ্ককে দূরে ঠেলে দু'বছর পর ফের মেলা হওয়ায় খুশি পুজো কমিটির লোকজন থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা এবং মেলায় আগত সকলেই।