
শেষ আপডেট: 25 March 2022 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামবাসীদের তুমুল বিক্ষোভ, গো ব্যাক স্লোগানে আমতার নিহত ছাত্রনেতা আনিস খানের বাড়িতে ঢুকতেই পারলেন না রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ববি হাকিম (Boby Hakim)। তাঁর সঙ্গেই ছিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী পুলক রায়। তাঁকেও ফিরিয়ে দেয় আনিসের পড়শিরা।
এদিন আনিসের মৃত্যুর ৪১ দিন। সেই কারণে আনিসের বাড়ির অদূরেই ধর্মীয় সভা হচ্ছিল। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ফুরফুরা শরিফের দুই পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকি এবং কাশেম সিদ্দিকি। তাঁরা ওই অনুষ্ঠানের আগে আনিসের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
ওই সভা শেষ হওয়ার পর যখন স্থানীয়রা ফিরছিলেন তখন দেখা যায় ববি হাকিম, পুলক রায়দের কনভয় ঢুকছে। মন্ত্রীদের দেখেই রাস্তা আটকে দেয় জনতা। স্লোগান ওঠে গো ব্যাক ববি হাকিম, গো ব্যাক পুলক রায়। এর আগে আনিসের মৃত্যুর তদন্ত নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে নবান্নে গিয়েছিলেন কাশেম। এদিন সেই কাশেম গ্রামবাসীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। ক্ষোভ এতটাই ছিল যে, রাজ্যের দুই মন্ত্রীকে ওখান থেকেই ফেরত পাঠিয়ে দেয় স্থানীয়রা।
স্থানীয়রা দুই মন্ত্রীকে ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, “এতদিন এঁরা কী করছিল? এতদিন কেন আসেনি।” জনতার বিক্ষোভ থেকে ফের এদিন আওয়াজ উঠল—সিবিআই তদন্তই চাই। রাজ্য সরকারের সিটকে তাঁরা ভরসা করেন না।
এর আগে অনেক দলের অনেক নেতা আনিসের বাড়িতে গিয়েছেন। কাউকে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়নি।
গত মঙ্গলবার আনিসের বাড়ি গিয়ে তাঁর বাবা সালেম খানের সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমক। তার কয়েকদিন আগে গিয়েছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। ঘটনা হল, এই প্রথম রাজ্যের কোনও মন্ত্রী আনিসের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ফিরতে হল দুই মন্ত্রীকেই।
আমতা-সহ গোটা গ্রামীণ হাওড়া গত কয়েক বছর ধরে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছে। সেই এলাকায় রাজ্যের শাসকদলের দুই নেতা ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীকে গণক্ষোভের মুখে পড়ে ফিরে আসা রাজনৈতিক ভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন অনেকে। পর্যবেক্ষকদের অনেকে, মানুষের ক্ষোভ যখন সীমা পেরিয়ে যায় তখন এমনই ঘটে। সিপিএমের সময়েও পশ্চিম মেদিনেপুরের নেতাই থেকে এ ভাবেই ফিরতে হয়েছিল তৎকালীন সিপিএম জেলা সম্পাদক দীপক সরকার।