দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিউশন পড়তে বেড়িয়েছিল বছর চোদ্দোর কিশোরী ঈশিতা দত্ত। তারপর থেকে পাওয়া যাচ্ছিল না খোঁজ। শেষে এক পরিচিত দাদার বাড়ি থেকে উদ্ধার হলো তার মৃতদেহ। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হাওড়ার বাগনানে।
হাওড়ার বাগনান থানার নবাসনে বাড়ি ঈশিতা দত্তর। কাছেই এক কোচিংয়ে টিউশন পড়তে যেত সে। সেই টিউশনের সামনেই জেরক্সের দোকান শুভময় মণ্ডলের। নোটস জেরক্স করার সূত্রেই তাদের পরিচয়। সূত্রের খবর, বাগনানের এন ডি ব্লকের বাসিন্দা ঈশিতা বুধবার বিকালে টিউশন পড়তে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও বাড়ি না ফেরায় ছাত্রীর বাবা-মা প্রথমে প্রাইভেট টিউটারের কাছে খোঁজ করেন। সেখান থেকে তাঁরা জানতে পারেন, ঈশিতা সেদিন টিউশন পড়তে যায়নি।
বাড়ি ফেরার পথে ঈশিতার দুই বন্ধুর সঙ্গে তাঁদের দেখা হয়। ঈশিতার পরিবারের দাবি, ওই দুই বন্ধু তাঁদের জানায়, পরিচিত কিশোর শুভময় মন্ডলের মায়ের সঙ্গে তাদের নবাসনের বাড়িতেই যাওয়ার কথা ছিল ঈশিতার। জেরক্সের দোকান থাকায় শুভময়কে এলাকার অনেকেই চিনত।
মেয়ের দুই বন্ধুর কাছ থেকে শুভময়ের বাড়ির ঠিকানা নিয়ে সেখানে গিয়ে হাজির হন ঈশিতার বাবা-মা। বাড়ির মালিক জানান, শুভময়রা সপরিবারে সন্ধ্যায় ঘরে তালা লাগিয়ে বেরিয়ে গিয়েছে। এরপরই বাগনান থানায় মেয়ের নামে নিখোঁজ ডায়েরি করেন ঈশিতার মা-বাবা। বাগনান থানার পুলিশ গিয়ে শুভময়ের ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখে, খাটের ওপর হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পড়ে রয়েছে ঈশিতার মৃতদেহ।
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, খুন করা হয়েছে ঈশিতাকে। কিন্তু কী কারণে তাকে খুন করা হয়েছে সেটা বোঝা যাচ্ছে না। ঈশিতার বাবা-মা জানান শুভময়ের কথা ঈশিতার কাছে কোনও দিন শোনেননি তাঁরা। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তারা। শুভময় ও তার পরিবারের সদস্যদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।