মা কালীর মূর্তি নয়, ঘটপুজো হয় বাদুড়িয়ায়! কেন জানেন?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাদুড়িয়ার আড়বেলিয়ার বেনে পাড়ার মজুমদার পরিবারের কালীপুজো (Kali Puja) প্রায় চার শতাব্দীর পুরনো। এই পুজোর সঙ্গে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতাপাদিত্যের ঘনিষ্ঠ যোগ আছে। তবে এখানে প্রতিমার পরিবর্তে সেই প্রাচীনকাল থেকে
শেষ আপডেট: 1 November 2021 17:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাদুড়িয়ার আড়বেলিয়ার বেনে পাড়ার মজুমদার পরিবারের কালীপুজো (Kali Puja) প্রায় চার শতাব্দীর পুরনো। এই পুজোর সঙ্গে বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম প্রতাপাদিত্যের ঘনিষ্ঠ যোগ আছে। তবে এখানে প্রতিমার পরিবর্তে সেই প্রাচীনকাল থেকে ঘট পুজো হয়ে আসছে।
উত্তরপ্রদেশে দুর্ঘটনায় মৃত কলকাতার সাংবাদিক, শোক প্রকাশ প্রেস ক্লাবের
যশোরের মহারাজা প্রতাপাদিত্য স্বপ্নাদেশ পেয়ে এক কালী মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। যা আজ যশোরেশ্বরীর মন্দির নামে বিখ্যাত । তাঁর দেওয়ান ছিলেন আড়বেলিয়ার মজুমদার পরিবারের এক বংশধর। সপ্তদশ শতকের প্রথমদিকে প্রতাপাদিত্যের সাম্রাজ্যে ভাঙন ধরে। কথিত আছে সেই সময় তাঁর দেওয়ান একদিন দেবীর স্বপ্নাদেশ পান। জানান ওই মন্দিরে তিনি আর থাকতে পারছেন না। এরপর যশোরেশ্বরী মন্দিরের মা কালীর ঘট ও খাঁড়া নিয়ে নিজের গ্রামে ফিরে আসেন সেই দেওয়ান। সেখানে খড়ের চালা ঘরে ঘটটি প্রতিষ্ঠা করেন। সেই থেকেই প্রত্যেকদিন ঘট পুজো হয়ে আসছে মজুমদার পরিবারে। এখানে মা কালীর কোনও মূর্তি বা ছবি নেই। মজুমদার পরিবারের বংশধরদের দাবি মা কালী স্বপ্নে জানিয়েছিলেন তাঁর যেন কোনও মূর্তি প্রতিষ্ঠা করা না হয়।
পরবর্তীকালে মজুমদার পরিবার খড়ের একচালা ঘরের পরিবর্তে বাঁধানো মন্দির তৈরি করেছে। সেখানে একটি বেদীর উপর সিংহাসনে যশোরেশ্বরীর সেই প্রাচীন তামার ঘট বসানো আছে। মজুমদার পরিবারের বংশধররা আজও প্রতিদিন এই ঘট নিয়মনিষ্ঠা মেনে পুজো করেন। তবে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠীর দিন এবং কার্তিক মাসের অমাবস্যা অর্থাৎ কালীপুজোর দিন মহা ধুমধাম করে এখানে পুজো হয়।
আড়বেলিয়া গ্রামে দীর্ঘকাল ধরে একটি রেওয়াজ চলে আসছে। মজুমদার পরিবারের কালীপুজো আগে হয়, এরপর বাকিরা পুজো করে। মজুমদার পরিবারে আজও কোনও দেবদেবীর মূর্তি তো দূরের কথা, ছবি পর্যন্ত নেই। দেবদেবীর ছবি দেওয়া ক্যালেন্ডার পর্যন্ত তাঁদের বাড়িতে রাখা হয় না।
আড়বেলিয়া গ্রামের মজুমদার পরিবারের পুজোয় আজও পাঁঠা বলি হয়। এখানে কালীপুজোর দিন দূর-দূরান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ পুজো দিতে আসেন। আড়বেলিয়া গ্রামের মজুমদার পরিবারের এই ঘট পুজো বাদুড়িয়ার ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
পড়ুন দ্য ওয়ালের সাহিত্য পত্রিকা 'সুখপাঠ'