
শেষ আপডেট: 12 May 2023 13:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের নির্দেশে শুক্রবার প্রাথমিকের ৩৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি (Primary Tecahers Recruitment) বাতিল হয়েছে। পড়ন্ত বেলায় সেই রায় একপ্রকার কম্পন তৈরি করেছিল বাংলার রাজনীতিতে। সন্ধেবেলা আচার্য ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রাথমিক শিক্ষক সংসদের সভাপতি গৌতম পাল (Gautam Pal) স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘যাঁদের চাকরি গিয়েছে তাঁরা এখনও পর্ষদের অধীন। এই অবস্থায় পর্ষদ কখনওই দায় এড়াবে না। আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি। দরকারে উচ্চতর আদালতে যাব।’ (Gautam Pals Reaction On Justice Abhijit Gangulys Order)
এই মামলার মূল প্রতিপাদ্য ছিল, প্রশিক্ষিত প্রার্থীদের বঞ্চিত করে অপ্রশিক্ষিতদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ ছিল বিএড, ডিএলএড যাঁরা করেছেন তাঁরা অগ্রাধিকার পাবেন।
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের রায় নিয়ে কুণাল, জেদাজেদি করতে গিয়ে কেউ অকারণে যেন বলি না হয়
এদিন গৌতম পাল বলেন, ‘এনসিইটির নিয়ম মেনেই সমস্ত নিয়োগ হয়েছিল। পূর্ণাঙ্গ রায় আসার পর আমরা যাবতীয় আইনি পরামর্শ করব।’ সেইসঙ্গে আরও একটি বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আদালতে। তা হল, এই ৩৬ হাজার জনের অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট হয়েছিল কিনা। আদালত বলেছে, তা যথাযথভাবে নেওয়া হয়নি। গৌতম পাল পাল্টা বলেন, কোর্ট পর্ষদের থেকে হলফনামা চেয়েছিল। সেখানে আমরা জানিয়েছি, প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়েছিল।
অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট মানে যেখানে তা নেওয়া হবে সেখানে একটা ব্ল্যাক বোর্ড থাকবে, চক থাকবে, বইপত্র থাকবে। শিশুদের কীভাবে পড়ানো হবে তা দেখানোর প্রক্রিয়া হল অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট। বঞ্চিতদের অভিযোগ, যে ঘরে অ্যাপ্টিটিউট টেস্ট নেওয়া হয়েছিল সেখানে এসব কিচ্ছু ছিল না। কাউকে কাউকে নাম, ঠিকানা জিজ্ঞেস করেই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং তাঁরা নিয়োগ পেয়ে যান।
সন্দেহ নেই একসঙ্গে ৩৬ হাজার জনের চাকরি খারিজ বড় ঘটনা। সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক—সব দিক থেকেই এর অভিঘাত নিদারুণ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। কারণ ৩৬ হাজার জনের চাকরি (Primary Tecahers Recruitment) মানে ৩৬ হাজার পরিবার। অনেকের মতে, যাঁদের চাকরি গিয়েছে তাঁদের তো বটেই সঙ্গে পরিবারের লোকজনের মধ্যেও বিপন্নতা কাজ করছে। এ হেন ঘোর অনিশ্চয়তার পরিবেশের মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ চাকরিচ্যুতদের পাশে দাঁড়ানোরই বার্তা দিল।