
শেষ আপডেট: 22 November 2022 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: হরিদ্বারের মতো এ রাজ্যেও বিভিন্ন জায়গায় গঙ্গা আরতি (Ganga Aarti) হোক, এমন ইচ্ছা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারপরে সোমবারই তড়িঘড়ি কলকাতায় গঙ্গার ঘাট পরিদর্শন করেন পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। একসঙ্গে অনেক মানুষ সন্ধ্যারতি দেখতে পারবেন এমন ঘাট কলকাতায় পাওয়া সমস্যা হলেও শহরতলিতে তেমন নয়। মঙ্গলবারই বারো মন্দির ঘাটে সন্ধারতির জায়গা ঠিক করে ফেলল কোন্নগর পুরসভা (Konnagar Municipality) ।
নারকেল ফাটিয়ে, শাঁখ-ঘণ্টা বাজিয়ে গঙ্গা পুজোর মধ্য দিয়ে সন্ধ্যারতির কথা ঘোষণা করেন কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস।
গঙ্গার পারে ফিতে ফেলে ঘাটের মাপ নেওয়া হল। লোহার রেলিং দেওয়া হবে দুর্ঘটনা এড়াতে। আগামী বৃহস্পতিবার প্রতিপদ থেকে সন্ধ্যারতি শুরু হবে। প্রতিদিন সন্ধায় বারো মন্দির ঘাটে হবে আরতি। বারো মন্দিরের পুরোহিত শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘গঙ্গার পশ্চিমকুল বারাণসী সমতুল। বারো মন্দিরে বারোটি শিবলিঙ্গ আছে। বহু প্রাচীন এই ঘাট। কোন্নগর পুরসভা থেকে যে সন্ধ্যারতির ব্যবস্থা করা হয়েছে তা খুবই ভাল। গঙ্গোত্রী থেকে সৃষ্টি হয়ে উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড হয়ে পশ্চিমবঙ্গে সাগরে মিশেছে গঙ্গা। গঙ্গা আরাধনার জন্যই এই গঙ্গা আরতি।’
কলকাতায় উদ্ধার বিহারী তরুণীর দেহ! পরিত্যক্ত আবাসনে কারা ফেলে গেল তাঁকে
কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘কোন্নগরের প্রাচীন বারো মন্দির ঘাটে মহাদেবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ আছে। এই ঘাটে বহু মানুষ সকাল-সন্ধে আসেন। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছাকে মর্যাদা দিতে এখানেই সন্ধ্যারতি হবে। হুগলি জেলার মধ্যে দ্রষ্টব্য হবে কোন্নগরের গঙ্গা আরতি।’
স্থানীয় বাসিন্দারা খুশি। তাঁদের মতে, অনেকেরই ইচ্ছা থাকলেও সামর্থ হয় না হরিদ্বার যাওয়ার। গঙ্গা দেখলেও গঙ্গা আরতি দেখা হয়নি যাঁদের, তাঁদের ভালো লাগবে।
পুরসভার এই গঙ্গারতির উদ্যোগকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি। বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর অনুপ্রেরণায় কোন্নগর বারো মন্দির ঘাটে গঙ্গা আরতি করতে উদ্যোগী হয়েছে পুরসভা। যোগীজিকে অনুসরণ করছে। যোগীজির মতো দুর্নীতির উপর বুলডোজার চালিয়ে দেখাক না। এসব নাটক করে কিছু হবে না। পরের নির্বাচনে তরী আর ঘাটে ফিরবে না।’
কোন্নগর পুরসভার চেয়ারম্যান স্বপন দাস বলেন, ‘বিজেপি সৃষ্টির আগে থেকে মহাপুরুষরা গঙ্গা আরতি করেছেন। উত্তরপ্রদেশে বিজেপি তো আগে ছিল না, তাহলে তারা কংগ্রেসকে অনুসরণ করেছে। বিজেপি ধর্ম নিয়ে ভোটের রাজনীতি করে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সব ধর্মের অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তা রাজনীতি করতে নয়।’