‘খুন’ করা হয়েছে মুরগিকে, অভিযোগ নিয়ে নিহত মুরগির ময়নাতদন্তের সিদ্ধান্ত পুলিশের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন ঘটনা বড় একটা শোনা যায় না। যে মুরগি কোনও ভাবেই সংরক্ষিত জীবের তালিকায় পড়ে না, যে মুরগি মারা হয় রসনাতৃপ্তির জন্য, তার ময়নাতদন্ত! হ্যাঁ, মালিকের অভিযোগ নিয়েছে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তেরও আশ্বাসও দিয়েছে।
মরা কয়েকটা মুরগি নিয়ে
শেষ আপডেট: 26 December 2019 15:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এমন ঘটনা বড় একটা শোনা যায় না। যে মুরগি কোনও ভাবেই সংরক্ষিত জীবের তালিকায় পড়ে না, যে মুরগি মারা হয় রসনাতৃপ্তির জন্য, তার ময়নাতদন্ত! হ্যাঁ, মালিকের অভিযোগ নিয়েছে পুলিশ এবং ময়নাতদন্তেরও আশ্বাসও দিয়েছে।
মরা কয়েকটা মুরগি নিয়ে জলপাইগুড়িতে কোতোয়ালি থানার ডিউটি অফিসারের ঘরের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন এক দম্পতি। থানার সেন্ট্রি জিজ্ঞাসা করায় দম্পতি অভিযোগ করেন, “প্রতিবেশীরা বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছে মুরগিগুলিকে, তাই লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে এসেছি।”
জলপাইগুড়ি ধাপগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম ও মুনসুরা বেগমের অভিযোগ, প্রতিবেশী ইমাজ্জিন আলির বিরুদ্ধে। ইমাজ্জিনের লঙ্কা খেতে তাঁদের পোষা ১০টি মুরগি নাকি মাঝেমধ্যেই ঢুকে পড়ে। ২৩ ডিসেম্বর তাঁর খেতের এক জায়গায় মুড়ি, ভাত প্রভৃতির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে ছিটিয়ে রেখেছিলেন ইমাজ্জিন। মুরগিগুলি সেখানে গিয়ে ওই খাবার খুঁটে খায়। ফিরে এসে আটটি মুরগিই মারা যায়। পরদিন জাল দিয়ে খেত ঘিরে দেয় ইম্মাজিনের পরিবার।

মুনসুরা বেগম বলেন, “কেন মুরগিগুলিকে মারা হল একথা ইমাজ্জিনদের বলতেই তারা আমাদের উপরে চড়াও হয়।” অভিযোগ, তাঁর শ্লীলতাহানিও করা হয়েছে। তাই তাঁরা লিখিত অভিযোগ জানাতে মরা মুরগিগুলিকে নিয়ে প্রথমে জলপাইগুড়ি আদালত চত্বরে যান। এরপর সেখান থেকে এক মুহুরির সহযোগিতায় কোতোয়ালি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন।
এ ব্যাপারে ইমাজ্জিনের কোনও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার টেলিফোনে জানান, অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ হলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২৯ ধারায় মামলা রুজু করা হবে। মুরগিগুলির ময়নাতদন্ত করা হবে। অভিযোগ প্রমাণ হলে দোষীদের দু’বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড অথবা জরিমানা অথবা দুটোই হতে পারে।
আইন অনুযায়ী, গৃহপালিত কোনও প্রাণীর দাম ৫০ টাকা বা তার বেশি হলে, সেই প্রাণীকে কোনও ভাবে হত্যা করা হলে, বিষপ্রয়োগ করা হলে বা অন্য কোনও ভাবে ক্ষতি করা হলে এ জন্য জেল, জরিমানা বা দুটোই হতে পারে।
কোনও প্রাণীর ময়নাতদন্ত করাতে গেলে থানায় অভিযোগ জানানো বাধ্যতামূলক। পুলিশ মামলা গ্রহণ করলে তবেই তা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ ওঠে যে থানা অভিযোগ নিতে অস্বীকার করছে, কিন্তু এক্ষেত্রে তেমন হয়নি। ওই দম্পতির অভিযোগ গুরুত্ব দিয়েই গ্রহণ করেছে পুলিশ।