
শেষ আপডেট: 1 August 2023 10:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: অভাবের সংসারে একটু সুরাহা করতে ভিটেমাটি ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন। সেখান থেকেই এল দুঃসংবাদ। তারপরেই কান্নার রোল উঠল ধূপগুড়ি ব্লকের ঝাড়আলতা আর ময়নাগুড়ির (Mainaguri) চারেরবাড়ি এলাকায়। ঠাণেতে নির্মাণস্থলে ক্রেন ভেঙে পড়ে যে ১৬ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের মধ্যেই রয়েছেন (Four migrant workers died in thane accident) ঝাড়আলতার বাসিন্দা গণেশ রায় (৪৩) ও প্রদীপ রায় (৩৪)। ময়নাগুড়ি চারেরবাড়ি এলাকার সুব্রত সরকার (২৬) এবং বলরাম সরকারও (২৭) দুর্ঘটনায় সময় সেখানে ছিলেন। ভোররাত থেকে এদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না।
ঝাড়আলতা ১ গ্ৰাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ডাউকিমারী এলাকার বাসিন্দা গণেশ রায়ের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সকালে মুম্বই থেকে ফোনে মৃত্যু সংবাদ জানতে পারেন তাঁরা। একটি নির্মাণ সংস্থার হয়ে কাজ করতে ছ’মাস আগেই ভিনরাজ্যের পাড়ি দিয়েছিলেন গণেশ। কাজ চলছিল নিয়মমাফিক। আচমকাই আসে এমন দুঃসংবাদ। বাড়িতে গণেশের মা ও স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ১২ ও ১৩ বছরের দুই মেয়ে এবং ১৫ বছরের ছেলে।
প্রদীপ রায়ের মা ও স্ত্রীকে এখনও মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি। প্রদীপের খুড়তুতো ভাই স্বপন রায় জানান, বেশ কয়েক বছর ধরেই তাঁর দাদা ভিনরাজ্যে কাজ করেন। চার-পাঁচ মাস আগে এই কাজে গিয়েছিলেন। তাঁর পরিবারে মা, স্ত্রী ও ৯ এবং ১০ বছরের দুই ছেলে রয়েছে।
জলপাইগুড়ির জেলাশাসক মৌমিতা গোদারা বসু জানিয়েছেন, এই চারজনের দেহ বাড়িতে ফেরাতে মহারাষ্ট্রের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ব্লক প্রশাসনের তরফে নিহতদের বাড়িতে লোক পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার ভোররাতে ঠাণের সাহাপুর এলাকায় সম্রুদ্ধি এক্সপ্রেসওয়েতে নির্মাণস্থলে কাজ চলার সময় আচমকা ক্রেন ভেঙে পড়ে শ্রমিকদের মাথায়। ধ্বংসস্তূপের ভেতর চাপা পড়ে যান অনেকে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ১৬ জন শ্রমিকের। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
আরও পড়ুন: ঠাণেতে নির্মাণস্থলে শ্রমিকদের মাথায় ভেঙে পড়ল ক্রেন, মৃত ১৬, ধ্বংসস্তূপে আটকে অনেকে