নিলয় দাস
গ্রাম থেকে কার্যত মন্ত্রীকে তাড়িয়ে পার্টি অফিস দখল করল বিজেপি।
শনিবার সন্ধ্যায় কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা ২ নম্বর ব্লকের বড় শোলমারী গ্রামের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রাম জুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়। নতুন করে অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য এলাকায় র্যাফ ও আধা সেনা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এ দিন সভায় লোকসভা নির্বাচনে হারের কারণ জানতে নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রের ওই গ্রামে হাজির হন রাজ্যের বন মন্ত্রী বিনয় কৃষ্ণ বর্মণ।
মন্ত্রী রাস্তার ধারের নিজের দলের গুটি কয়েকজন কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা চালাতে থাকেন। গ্রামে মন্ত্রী ঢুকেছে সে খবর পাওয়ার পর যে যার মতো পার্টি অফিসের আশপাশে জড়ো হতে থাকেন বিজেপির সমর্থকেরা। চলে “গো ব্যাক” স্লোগান। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ঘোকসাডাঙা থেকে পুলিশ বাহিনী ঘটনা স্থলে পৌঁছয়। তাতেই আরও উত্তেজনা বাড়ে।পরবর্তীতে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মন্ত্রীকে কোনমতে বিক্ষোভকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করে বাড়ির পথে রওনা করায় পুলিশ ও আধা সেনা। মন্ত্রী যাবার পর অফিস থেকে চেয়ার, বেঞ্চ, আলমারি বের করে লাগোয়া মুজনাই নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। অফিসে টাঙিয়ে দেওয়া হয় গেরুয়া পতাকা।
ঘটনা প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী বিনয় বর্মন বলেছেন, "সিপিএমের পুরনো লোকগুলো বিজেপি সেজে গুন্ডামো করছে। আমি মিটিং সেরে বেরিয়েছি। এত কাপুরুষ নই যে পালিয়ে যাব।"
কয়েকজন বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীর কথায়, জেলা সভাপতি আর মন্ত্রীর কারণে আমাদের আসনে গো হারা হারতে হয়েছে। জেলা সভাপতি মানুষের সঙ্গে ব্যবহার ভালো করেন না। উনি মন্ত্রী হওয়ার পর ঔদ্ধত্য বেড়েছে। জমিদারি মনোভাবের ফলে এই ফল হয়েছে আমাদের।“
তৃণমূলের কয়েকজন কর্মীর কথায়, যারা আজ এই কাণ্ড ঘটাল তারা এক সময় সিপিএম করত। মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপি-র আসন বাড়ায় দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধী রাজনৈতিক দলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার পাশাপাশি কোচবিহার জেলায় সেই আঁচ পড়ে। ওই জেলায় একের পর এক শাসক দলের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর-সহ তৃণমূলের নেতা কর্মীর একাধিক বাড়ি ঘর ভাঙচুরে ঘটনা ঘটে।
এমনকী, সদ্য তৃণমূলে যোগ দিয়ে রাজ্যের এক সময়ের ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রথম সারির নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী পরেশ অধিকারীকে লোকসভায় প্রার্থী পদ পাইয়ে দেওয়ার পর তৃণমূলের কর্মী সমর্থকদের মধ্যে দলের জেলা নেতাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তুঙ্গে ওঠে। নির্বাচনের পর বিজেপি-র প্রার্থীর কাছে এক প্রকার “নিশ্চিত” আসন হারের ঘটনা মেনে নিতে পারেননি তৃণমূলের কর্মী ও নিচু স্তরের নেতারা।