
শেষ আপডেট: 22 October 2022 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: শনিবার বিকেল ৫ টার মধ্যে তিস্তার চর (Teesta Char) না ছাড়লে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিল বন দফতর (forest department)। বুনো হাতির (elephant) দলকে কোনও ভাবে উত্যক্ত করলে গ্রেফতার করা হবে বলেও মাইকে প্রচার শুরু হয়েছে।
তিস্তার চর জুড়ে মানুষের বসতির অনেকটাই গড়ে উঠেছে হাতির করিডর দখল করে। হাতির চলাচলের পথ দখল করে চলছে বসবাস ও চাষ আবাদ। চলাচলের পথে বাধা পাচ্ছে হাতি। তীব্র হচ্ছে মানুষ-হাতি সংঘাত। তাই শনিবার বিকেলের মধ্যে তিস্তা নদীর চর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশিকা জারি করল বন দফতর। প্রাণহানি ঠেকাতে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে বলে বন দফতর সুত্রে জানা গেছে।
পাকা ধান এবং সবজির লোভে গত কয়েকদিন ধরেই জঙ্গল থেকে তিস্তার চর এলাকায় চলে আসছে হাতির দল। আর এই হাতির দলকে তাড়িয়ে দিতে ট্র্যাক্টর নিয়েও তাড়া করে তিস্তা চরের বাসিন্দাদের একাংশ। শনিবার ভোর রাতে খাবারের খোঁজে ৬০-৭০ টি হাতির একটি পাল ওই এলাকায় ঢুকে পড়ে। খবর পেয়ে বন দফতরের কর্মীরা এলাকায় পৌঁছে হাতি তাড়াতে শুরু করলে এই গ্রামেরই বাসিন্দা নীলকান্ত ওঁরাও (৬০) এর বাড়িতে ঢুকে পড়ে একটি হাতি। তখন ঘুমোচ্ছিলেন নীলকান্ত। ঘরে ঢুকে হাতিটি তাঁকে পিষে মারে।
এরপরই কড়া পদক্ষেপ ঘোষণা করে বন দফতর। শনিবার দুপুরে তিস্তা পারে মাইকে প্রচার করে বাসিন্দাদের চর ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেয় বন দফতর। বিকেলের পর চরে মানুষ দেখা গেলেই আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে এবং কেউ যদি বুনো হাতিদের উত্যক্ত করে তবে তাকে গ্রেফতার করা হবে বলেও বন দফতরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সিতরাং ঢুকছে কালীপুজোর পরের দিন, কোথায় ল্যান্ডফল জানিয়ে দিল হাওয়া অফিস
রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত জানান, আগে এই এলাকায় হাতির এরকম উপদ্রব ছিল না। কিন্তু দিনে দিনে হাতির করিডর দখল করে বাড়িঘর বানিয়ে চাষবাস শুরু করেছে মানুষ। নিজভূমে পরবাসী হওয়াতেই হাতির হানা বেড়েছে। শুক্রবার হাতির হামলায় নিহতের পরিবারকে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং পরিবারের একজনকে চাকরি দেওয়া হবে। চরের মানুষদের সরিয়ে দিয়ে তারপরেই এখানে থাকা হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফেরত পাঠানো হবে।