গভীর সমুদ্র থেকে ফেরার পথে চড়ায় উল্টে গেল ট্রলার, ক্ষতি এক কোটি টাকার উপর
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গভীর সমুদ্র থেকে ফেরার পথে চড়ায় আটকে উল্টে গেল এগারোজন মৎস্যজীবী ও মাছ সমেত একটি ট্রলার। অন্য মৎস্যজীবীরা তা দেখে ফেলায় তাঁরা দ্রুত ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারের কাছে পৌঁছে দশজনকে উদ্ধার করেন।
খবর দেওয়া হয় স্থানীয় কোস্টাল থা
শেষ আপডেট: 27 December 2019 09:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গভীর সমুদ্র থেকে ফেরার পথে চড়ায় আটকে উল্টে গেল এগারোজন মৎস্যজীবী ও মাছ সমেত একটি ট্রলার। অন্য মৎস্যজীবীরা তা দেখে ফেলায় তাঁরা দ্রুত ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারের কাছে পৌঁছে দশজনকে উদ্ধার করেন।
খবর দেওয়া হয় স্থানীয় কোস্টাল থানায়। মৎস্যজীবীদের সঙ্গে নিয়ে কোস্টাল থানার পুলিশ স্পিডবোটে করে গিয়ে উল্টে পড়া ট্রলারে খোঁজ করেন। অল্পক্ষণের মধ্যেই আটকে পড়া মৎস্যজীবী নির্মল দাসকে তাঁরা উদ্ধার করেন। তিনি একটি ড্রাম ধরে ভেসে ছিলেন। পুলিশ তাঁকে দীঘা স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা করার পরে নন্দীগ্রামের বাসিন্দা নির্মল দাসকে ছেড়ে দেন।
দীঘা ফিশারমেন অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, “মাছ ধরার পরে ওই ট্রলারটি বন্দরের দিকে ফিরছিল মাছ নামানোর জন্য। কিন্তু তার আগেই বন্দরের কাছে সেটি চড়ায় ধাক্কা মেরে উল্টে পড়ে। সেটি দেখে উপস্থিত মৎস্যজীবীরা নৌকা নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। তাঁরাই দশজনকে উদ্ধার করেন। একজন নিখোঁজ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারটির নাম মা কৃপাময়ী, তার মালিকের নাম বিচিত্র মাঝি।” পরে তিনি জানান যে নিখোঁজ মৎস্যজীবীকে উদ্ধার করা গেছে তিনি সুস্থই আছেন।
মৎস্যজীবীরা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহুবার তাঁরা দরবার করেছেন এই এলাকায় ড্রেজিং করানোর জন্য কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। ড্রেজিং না করার ফলেই এই অঞ্চলে পলি পড়ে গেছে, তৈরি হয়েছে চর। সেই চরে আটকে সাম্প্রতিক অতীতে আরও দু’বার ট্রলার উল্টে গেছে।

এবারে যে ট্রলারটি উল্টে গেছে তাতে অন্তত পঁচাত্তর হাজার টাকার মাছ ছিল বলে প্রাথমিক অনুমান। তবে ক্ষতির অঙ্ক অনেক গুন বেশি। ট্রলারটি উল্টে যাওয়ায় অন্তত এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করছেন মৎস্যজীবীরা। ওই ট্রলারটির যা অবস্থা তাতে সেটি হয়তো আর কাজে লাগবে না বলেই মনে করছেন তাঁরা। ট্রলারটি প্রায় ভেঙে গেছে।
মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, ইদানীং মাছ খুবই কম পাওয়া যাচ্ছে গভীর সমুদ্র থেকে। তাই তাঁদের ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। তার উপরে যদি এই ধরনের সমস্যা মাঝেমধ্যেই হতে থাকে তা হলে তাঁদের পক্ষে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়বে। এই দুর্ঘটনা তাঁদের চিন্তা নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে। যে মৎস্যজীবীরা ওই দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রলারে ছিলেন তাঁরা বেশ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।