দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘মানুষের ভোগান্তি হচ্ছে। আজ বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁদের কথা শুনেছি। হাত জোড় করে বলেছি বাসটা চালান। তবে বাস চলবে। বাসগুলির মেরামতিরও প্রয়োজন।’ সোমবার সন্ধেয় কলকাতা পুরসভায় একথা বললেন পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম।
বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে রাজ্য সরকারের সঙ্গে বাস মালিকদের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু এদিন দুপুরে কোনও সমাধানসূত্র বেরোয়নি। বিকেল ৫টায় বৈঠক করে ৫টি বাস মালিক সংগঠন। সেখানেও নিজেদের দাবিতে অনড় রয়েছেন তাঁরা। পরিবহণমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বৈঠকের পর জানিয়েছিলেন, আগে বাস পথে নামাতে হবে। তার পর ভাড়াবৃদ্ধি নিয়ে বিবেচনা করবে সরকার।
এদিন ময়দানের তাঁবুতে পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বৈঠক করেন বেসরকারি বাস মালিকদের সঙ্গে। বৈঠক শেষে তিনি বলেন, ‘আজ রোড সেফটি নিয়ে কথা হয়েছে। বাস নিয়ে আলোচনা চলছে। স্বর্ণকমল সাহা রয়েছেন। আমি অনুরোধ করেছি আগে বাসটা চালান। ভাড়ার ব্যাপারটা আমরা সরকারকে পাঠিয়েছি। তাঁরা বিবেচনা করছেন।’
অনেকদিন থেকেই পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাস ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছে বাস মালিকদের সংগঠন। কিন্তু সরকারের তরফে তাঁদের অবিলম্বে বাস চালানোর কথা বলা হয়েছে। ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন পরিবহণমন্ত্রী। ফিরহাদ ছাড়াও স্বর্ণকমল সাহা এবং বাস মালিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে। ওই বৈঠকেও বাস ভাড়া বাড়ানোর আবেদন করেন মালিকরা।
১ জুলাই থেকে রাস্তায় বাস নামানোর অনুমতি দিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু তার পরও রাস্তায় দেখা মিলছে না বেসরকারি বাসের। মালিকদের দাবি, জ্বালানি তেল ও অন্যান্য সামগ্রীর দাম যে হারে বেড়েছে তাতে ভাড়া না বাড়ালে বাস চালানো সম্ভব নয়। কলকাতায় বাসভাড়া ন্যূনতম ১০ টাকা করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। এই নিয়ে আলোচনার জন্য এদিন বৈঠক ডেকেছিলেন পরিবহণ মন্ত্রী। বৈঠকে বাসমালিকদের পক্ষে ভাড়া না বাড়ালে বাস চালানো সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পালটা সরকারের পক্ষে পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, আগে রাস্তায় বাস নামিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করুন। তারপর ভাবা হবে বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে।
বৈঠক শেষে ফিরহাদ বলেন, ‘আমি আগে বাস রাস্তায় নামিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘব করতে বলেছি। বাসভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যে বিশেষজ্ঞ কমিটি রয়েছে তার সুপারিশ নবান্নে জমা পড়েছে। সরকার তা খতিয়ে দেখে সময়মতো পদক্ষেপ করবে।’
সারা বাংলা বাস মিনিবাস সমন্বয় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বাস কবে পথে নামবে, তা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কয়েকটি সংগঠন কিছু বাস চালাচ্ছে। সেগুলিতে ভাড়া একটু বেশি নেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, ওই বর্ধিত ভাড়াকেই স্বীকৃতি দিক সরকার।