
শেষ আপডেট: 2 June 2022 14:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অর্থ সংকটের (Finance) জেরে তেলেঙ্গানা সরকার কর্মচারীদের মাস পয়লা মাইনে দিতে পারছে না। তারা ছয় দফায় বিভিন্ন জেলায় কর্মচারীদের মাইনে দেবে বলে ঠিক করেছে।
আর এক রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশেরও অবস্থা (Finance) এতটাই খারাপ যে ঋণ পরিশোধ করার ক্ষমতা নেই তাদের। সেই কারণে কেন্দ্রীয় সরকার তাদের বাজার থেকে টাকা ধার করার অনুমতি দিচ্ছে না।
আরও পড়ুন: এক বছরে রাজ্যে জিএসটি আদায় বেড়েছে ২৩ শতাংশ, কৃতিত্ব মমতার, বললেন অমিত
পশ্চিমবঙ্গ সরকার ডিএ নিয়ে হাইকোর্টের রায় নিয়ে কোনও উচ্চবাচ্য করছে না। বাংলার দশা কি তেলেঙ্গানা, অন্ধ্রপ্রদেশের মতো হতে পারে?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর্থিক উপদেষ্টা তথা রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্রকে (Amit Mitra) বৃহস্পতিবার এমনই কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল সাংবাদিক বৈঠকে (Finance)। রাজ্যের দু’দফার প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত তথ্য ও যুক্তি দিয়ে দেখালেন, বাংলার তেমন পরিস্থিতির মুখে পড়ার কোনও সম্ভবনা নেই।
তিনি এখন মন্ত্রিসভার কেউ নন, ফলে বকেয়া মহার্ঘভাতা মেটানো বা ডিএ নিয়ে হাইকোর্টের রায় কার্যকরের মতো রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়ে যে তাঁর মন্তব্য করা অনধিকার চর্চা হবে, তা বিলক্ষণ জানেন রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তবে পরোক্ষে বুঝিয়ে দিয়েছেন, এই সব কিছুর মূলে আছে রাজ্যের হাতে কতটা অর্থ আছে। ডিএ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় সরকারের অসহযোগিতার কথা শুনিয়েছেন। বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য আবশ্যিক খাতে কেন্দ্রের কাছে ৯৭ হাজার কোটি টাকা রাজ্যের পাওনা। এছাড়া অনুন্নত এলাকা উন্নয়ন তহবিলের মতো বিশেষ প্রকল্পের পাওনা তো আছেই।
তবে অমিত মিত্র বুঝিয়ে দেন, কেন্দ্রের কাছ থেকে বিপুল পাওনা সত্ত্বেও রাজ্য নিজের আয়ের উপর ভরসা করে এখনও যথেষ্ট মজবুত জায়গায় দাঁড়িয়ে। তিনি বলেন, ফিসক্যাল রেসপনসিবিলিটি অ্যান্ড বাজেট ম্যানেজমেন্ট আইনকে রাজ্য সরকার কোনওভাবেই লঙ্ঘন করেনি। ওই আইনে রাজ্যগুলির বাজার থেকে টাকা ধার নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেওয়া আছে। সেই সঙ্গে নিজস্ব আয় বৃদ্ধিতেও বেশ কিছু লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দেওয়া আছে।
ঋণ এবং রাজ্যের গড় অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের অনুপাত আগে ছিল ৪৪ শতাংশ। বর্তমান সরকার তা ৩৪ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। অমিত মিত্র বলেন, রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি এবং রাজস্ব ঘাটতি নির্ধারিত মাত্রার মধ্যেই আছে এবং থাকবে। ফলে বাংলার রাজ্য সরকারের তেলেঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশ হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।
সাংবাদিক বৈঠকে অমিত মিত্র বাংলার জিএসটি খাতে আদায় নিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের সমালোচনার জবাব দেন। অমিত মিত্র বিজেপি নেতার প্রতি সম্মান জানিয়েই বলেন, ওঁকে দোষ দিচ্ছি না। উনি বটানির শিক্ষক। আর্থিক বিষয়ে বিশদ ধারণা থাকার কথা নয়। হয়তো কেউ ওঁকে ভুল বুঝিয়েছে। উনি জানেন না যে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জিএসটি আদায় গত বছর ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুকান্ত বলেছিলেন, বাংলায় শিল্প নেই। তাই জিএসটি বাবদ আদায় কম হয়েছে। বিজেপি রাজ্য সভাপতির এই সমালোচনাই এদিন খণ্ডন করেন অমিত। তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে কেন্দ্র বাড়তি অর্থ দিয়েছে। তিনি হিসাব দেন, পশ্চিমবঙ্গ পেয়েছে ৬৫৯১ কোটি টাকা। সেখানে বিজেপি শাসিত উত্তরপ্রদেশ পেয়েছে ৮৮৭৪ কোটি টাকা। বিজেপি শাসিত আর এক রাজ্য কর্ণাটক ৮৬৩৩ কোটি পেয়েছে। অমিতের প্রশ্ন ওই সব রাজ্যে কি ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে? তাঁর প্রশ্ন, কোন রাজ্যে ইন্ডাস্ট্রি হয়েছে?